ছাতকে আওয়ামী পরিবারেই বেড়ে ওঠে ‘জঙ্গি’ সিফাত

প্রকাশিত: 2:36 AM, July 29, 2016

সংবাদদাতা, ছাতক : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামেই জন্ম  ছয় শীর্ষ খুনীর অন্যতম আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সামরিক সদস্য সিফাতের বাড়ি। সে গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুছের পুত্র।

 

এ পরিবারের সবাই আওয়ামী ঘরানার অনুসারি। তার চাচা সাবেক মেম্বার আব্দুল কবিরও একই আদর্শের অনুসারি। আওয়ামীলীগের আদর্শে বেড়ে উঠা শীর্ষ খুনী সিফাত ছোট বেলাতেই সে হিজবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এজন্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের লিফলেট নিজের ঘরে রেখেই সে নিরাপদে বিতরন করেছে। একপর্যায়ে লিফলেট বিতরনকালে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ রেলগেইট থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তার পিতা, চাচা, চাচাতো ভাই মুহিনও ভগ্নিপতিসহ অন্যান্যরা আ’লীগের ঘরানার থাকায় রহস্যজনক কারনে পুলিশ তার কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটন করেনি। রিমান্ডে ও আনা হয়নি তাকে। এজন্যে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে ছাতকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত একটি শক্তিশালী চক্র।

 

এরপর পরিবারও আত্মীয়-স্বজনের গাঁয়ে আওয়ামী সাইনবোর্ড দেখিয়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই হাইকোর্টের জামিনে জেল থেকে বের করা হয়। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েই পূনরায় শুরু করে সন্ত্রাসী, খুন, রাহাজানি ও ব্যাপক জঙ্গি তৎপরতা। জেল খাটার সূবাদে হিজবুত তাহরীর থেকে নেয়া হয় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে। সেখানে তাকে দেয়া হয় উচ্চতর প্রশিক্ষণ। জন্ম সূত্রে শামীম নামে পরিচিত হলেও পরে সে শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান ওরফে সিফাত নামে নিজেকে পরিচয় দিতো। বর্তমানে নি¤œস্তর থেকে প্রশাসনের শীর্ষ মহলে সামির নামে তার পরিচিতি।

 

জানা গেছে, সামির ছোট বেলা থেকেই তার বাবা আ’লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুছ, চাচা একই ঘরানার আব্দুল কবিবের সান্নিধ্যে থেকে জঙ্গিবাদে প্রশিক্ষণ নেয়। এক্ষেত্রে তাকে অভিবাবকরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা পেয়েছে তার চাচী আব্দুল কবিরের স্ত্রীর কাছ থেকে। সিলেটের রিকাবীবাজার এলাকায় চাচীর পিত্রালয়। সেখান থেকেই সামির ও তার চাচাতো ভাই মুহিন জঙ্গি তৎপরতার প্রশিক্ষণ নেয়। তবে এর সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন তার পিতা ও চাচা। পরে ছাতক এলাকায় হিজবুত তাহরীর সংগঠনের একটি আঞ্চলিক শাখা গঠন করে শুরু করে এর সাংগঠনিক কার্যক্রম। এসময় তার বাড়িতে দেয়া হতো জঙ্গি প্রশিক্ষণ। অবশেষে সে লিফলেট বিতরনকালে স্থানীয় গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় তার সহযোগিরা। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সামির ও মুহিন একজোট হয়ে দীর্ঘদিন থেকে তারা লিফলেট বিতরন করছে। থানায় আওয়ামী পরিবারের দাপুটে তৎপরতায় তার সহযোগিদের ব্যাপারে তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এরপর কয়েকদিনের মধ্যেই সামিরকে উচ্চ আদালতের জামিনে বের করা হয়।

আরও পড়ুন  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

 

সম্প্রতি মুহিন ঢাকায় একটি জঙ্গি সংগঠনের মিছিলে গ্রেফতার হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে মুহিন আবারো জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে। জামিন নেয়ার ক্ষেত্রে দলের প্রভাবশালীরা জড়িত রয়েছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে আওয়ামী খোলসে দু’জনই নিরাপদে আত্মগোপনে রয়েছে। এখন সরকার সিফাতকে গ্রেফতারের জন্যে ২লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেছে। আব্দুল কবিরসহ তার পরিবারের উপর কড়া নজরদারি করলে থলের বেড়াল বেরিয়ে পড়তে পারে এমন ধারনা করছেন অভিজ্ঞমহল।

 

একপর্যায়ে ঢাকাস্থ কলাবাগানের জোড়া খুন, লেখক অভিজিৎ রায়, ফয়সল আরেফিন দীপন, নীলাদ্রি চ্যাটার্জি নিলয়, জবি ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদসহ আট লেখক-প্রকাশক ও ব্লগার হত্যায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

 

পুলিশ বলছে, শনাক্ত হওয়া ছয়জন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সক্রিয় সদস্য। ১৯মে’২০১৬ইং সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে তাদের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে পুলিশ তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ঢাকা ‘ডিএমপি নিউজ পোর্টালে’ও তাদের ছবিসহ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। যে ছয়জনের ছবি ও নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন, এবিটির শীর্ষ পর্যায়ের সংগঠক (১) শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী ও (২) সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী, সদস্য (৩) সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, (৪) আবদুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ (৬) শিহাব ওরফে সুমন ওরফে সাইফুল ও (৬) সাজ্জাদ ওরফে সজীব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস। কোন হত্যার ঘটনায় কারা কীভাবে জড়িত ছিল, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছে পুলিশ। এই প্রথম উগ্রপন্থিদের তথ্যসহ ছবি প্রকাশ করে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১৮লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হলো।

 

আরও পড়ুন  জাফলং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

এর আগে নববর্ষে টিএসসিতে শ্লীলতাহানি ও মতিঝিলে জামায়াত-শিবিরের ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়:- একাধিক হত্যায় জড়িত সিফাত : এবিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিফাত। তিনি সংগঠনে শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান নামেও পরিচিত। তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। তিনি সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন হত্যা, সাভারে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকান্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহনের বিষয়টি পাওয়া যায়। সিফাত এসব কিলিং মিশনের সার্বিক সমন্বয়কারী ও জড়িতদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তার ব্যাপারে তথ্যদাতাকে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ডিএমপি সূত্র জানায়, তথ্য প্রদানের জন্য-০১৭১৩৩৭৩১৯৪, ০১৭১৩৩৭৩১৯৮, ০১৭১৩৩৭৩২০৬ ও ০২-৯৩৬২৬৪০ এসব নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ