‘জঙ্গি নিয়ন্ত্রনে’ সীমান্তে বিজিবির নজরদারী বৃদ্ধি

প্রকাশিত: 7:27 PM, March 29, 2017

শ. ই. সরকার জবলু, মৌলভীবাজার : দেশের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা এবং সর্বশেষ সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিদের আত্মঘাতী আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানের পর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে মৌলভীবাজারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পার্শ্ববর্তী জেলা সিলেটের ঘটনায় মৌলভীবাজারের জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ বাসা-বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহ ও তল্লাশি চালাচ্ছে।
সম্প্রতি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয় পাহাড়ি অঞ্চলে জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা গড়ে উঠতে পারে। এর প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা হবিগঞ্জ, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলায় পুলিশ ও বিজিবি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অন্যদিকে, পুলিশের উদ্যোগে শহর ও শহরতলীর প্রত্যেক বাসায় ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহ ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ নজরে আনা হয়েছে জেলা জজ আদালত ও জুডিশিয়াল আদালত। ইতোমধ্যে সর্বত্র পুলিশি নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলস্থ বিজিবি মৌলভীবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার ও বিজিবি ৫২ ব্যাটলিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল নিয়ামুল কবির জানান- সিলেটের বিয়ানীবাজারের গজুকাটা থেকে হবিগঞ্জের লক্ষ্মীবাজার পর্যন্ত ৩শ ৫১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার স্থানে কড়া নজরদারি রয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষকরে রাতে চলাচলকারী যানবাহনসমূহের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন সীমান্ত এলাকার ক্যাম্পগুলোকে বেশি সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি নিয়ন্ত্রনে জনগনকে সচেতন করার কাজও চলছে। এদিকে, বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধিনে বিয়ানিবাজারের লক্ষীবাজার থেকে নেত্রকোনার মাটিরাবন এলাকার ৩শ ২ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। সিলেটে অবস্থিত বিজিবি ৪১ ব্যাটলিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল শাহ্ আলম চৌধুরী জানান- সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারী রাখা হচ্ছে- যাতে করে কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে। বিজিবির পাশাপাশি বিএসএফও সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি করেছে। সীমান্তের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি অঞ্চল থাকায় জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা যাতে গড়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে ওইসব এলাকার বাড়ি-ঘরসহ পাহাড়ের নির্জন এলাকা নজরদারীতে রয়েছে। বিজিবির ক্যাম্পগুলোকে ইতোমধ্যে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান- চলমান জঙ্গি ইস্যুতে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে ছদ্ববেশে এখানে অবস্থান করতে না পারে সেজন্য তল্লাশি চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ