‘ঝি-পুত লইয়া এই সাগর কিবায় পাড়ি দেম’

প্রকাশিত: 2:15 PM, December 15, 2023

‘ঝি-পুত লইয়া এই সাগর কিবায় পাড়ি দেম’
প্রভাতবেলা ডেস্ক: আমার পুতের কী দোষ আছিল? আমার ভালা পুত ঢাহা গেল হাক (শাক-সবজি) বেঁচতো। কিন্তু আমার পুতের লাশ মাইনষে বাড়িত লইয়া আইলো! আমার পুত তো কামাই কইরা আমরারে খাওয়াইতো। অহন কেডায় খাওয়াইব গো আল্লাহ? অহন আমার সংসার কিবায় চলবো গো? গাজীপুরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত গফরগাঁওয়ের সবজি ব্যবসায়ী আসলামের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিধবা মা হোসনা বেগম এভাবেই বিলাপ করছিলেন। সেখানে আসলামের স্ত্রী ও শিশু সন্তানরাও কাঁদছিলেন।

 

আসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন আহাজারি করছিলেন, ‘ভাঙা একটা ঘর ছাড়া আমরার তো আর কিছু নাই। আমার স্বামীর রোজগারে চলত সাতজনের সংসার। ১০ বছর আগে শ্বশুর মারা গেছে। এর পরেত্তে আমার জামাই এলাকাত্তে হাক (সবজি), আঁস (হাঁস) মুরগি ঢাহায় নিয়ে বেইচ্চা সংসার চালাইত। অহন এই সংসার কিবায় চলব? আমি ঝি-পুত লইয়া এই সাগর কিবায় পাড়ি দেম?’

 

আসলামের স্বজন জানান, গফরগাঁও উপজেলার রৌহা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আসলাম ১০ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাক-সবজি, হাঁস-মুরগি, কবুতরের বাচ্চা, ডিম সংগ্রহ করে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করতেন। এই ব্যবসার টাকায় চলত মা, অসুস্থ ছোট ভাই ও বোন এবং স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার। গত মঙ্গলবার রাতেও আসলাম প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে শাক-সবজি, হাঁস-মুরগি নিয়ে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ একপ্রেস ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের ভাওয়ালগড়ের বনখড়িয়া এলাকায় আগে থেকেই কেটে রাখা রেললাইনে দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রেনটি। এতে ইঞ্জিনসহ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হলে ঘটনাস্থলেই আসলাম নিহত হন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়

 

এদিকে ঘটনার পর আসলামের বাড়িতে যান স্থানীয় এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল। তিনি স্বজনের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

 

আসলামের মামাতো ভাই মজনু মিয়া জানান, আসলাম ছাড়া পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ নেই। কোনো জমিও নেই। এত মানুষ কীভাবে বাঁচবে?

সর্বশেষ সংবাদ