তারেকের ৭ বছরের কারাদন্ড, ২০ কোটি টাকা জরিমানা

প্রকাশিত: 3:27 PM, July 21, 2016

প্রভাতবেলা ডেস্ক:  নিম্ন আদালতের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিলে খালাসের রায় বাতিল করে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট।

সেই সাথে এ মামলায় তাকে ২০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।এ মামলার অপর আসামি তারেকের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের নিম্ন আদালতের সাত বছরের সাজার রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।
তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড কমিয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার পৌনে ১১টায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

এর আগে এ মামলায় নিম্ন আদালতে বিচার শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়।

রায়ে আদালত বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের অর্থপাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ ধরনের ঘটনা অর্থপাচার সংক্রান্ত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আর এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থপাচারের যে ঘটনা তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে এই মামলাটি। তাই সরকারকে নতুন করে এই ধরনের অর্থপাচারের ঘটনা রোধে চিন্তা-ভাবনা ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ সুরমা কলেজে ছাত্রলীগ কর্মীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত

রায় ঘোষনার পর দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, মহামান্য আদালত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে সাত বছরের জেল ও মানি লন্ডারিং ১৩ উপধারা মতে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন। তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে বিচারিক আদালত সাত বছরের জেল ও ৪০ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। আজকে আদালত তার আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে সাত বছরের সাজা বহাল রেখে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তারেকের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এ রায়ে আমরা স্তম্ভিত হতবাক। সমগ্র জাতি আজ হতবাক। আজকে রায়ের দিনে আমরা দেখেছি আদালতে দুদক, রাষ্ট্র ও অ্যাটর্নি জেনারেল, একাকার হয়েছেন। আমরা রায় দেখে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

মামলাটি দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই অনুপস্থিত ছিলেন তারেক। গত আট বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। আর মামুন জরুরি অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে।

তারেক রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর আপিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি হাই কোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করে তারেককে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন  দেশে করোনা শনাক্ত ছাড়াল ৪ লাখ

লন্ডনপ্রবাসী তারেক না ফেরায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে তা তার লন্ডনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

দুদকের করা ওই আপিলের সঙ্গে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে মামুনের করা আপিলও শুনানির জন্য তালিকায় আসে। এরপর হাই কোর্টে ৪ মে আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়ে শেষ হয় ১৬ জুন। এইদিনই রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখে আদালত।

আদালতে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে দীর্ঘ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শহীদুল ইসলাম খান।

তারেক রহমান ‘পলাতক’ থাকায় তার পক্ষে আপিলে কোনো আইনজীবী ছিলেন না বলে খুরশীদ আলম খান জানান।ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর দায়ের করা এ মামলায় তারেক-মামুনের বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ জুলাই।

সর্বশেষ সংবাদ