দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ: আসামী সনাক্ত

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০১৭

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ: আসামী সনাক্ত

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  রাজধানী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশননার শেখ নাজমুল আলম।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আসামিরা যত প্রভাবশালীই হোক না তাদের গ্রেপ্তার করা হবে, ছাড় দেয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসামিদের কেউ পালিয়ে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে এরকম কোনো তথ্য নেই। কেউ পালিয়ে যেতে পারবে না। এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরআগে, আসামীরা ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দেয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী।

ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদমান সফিক তাদের প্রায় ২ বছর আগের পূর্ব পরিচিত বন্ধু। ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে গুলশান-২ নম্বরের ৬২ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। এরপর জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ সাফাত আহমেদ তার গাড়ি পাঠিয়ে ড্রাইভার ও বডিগার্ডের মাধ্যমে তাদের বাসা থেকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ছাদে নিয়ে যান।

তখনো তারা বুঝতে পারেননি তাদের জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে। হোটেলের ছাদে যাওয়ার পর কোনো ভদ্রলোককে দেখতে পাননি তারা। সাফাত, নাঈম ও সফিক ছাড়াও সেখানে আরো দুজন মেয়ে ছিল। তাদের ওই হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পর আগে থেকে সেখানে থাকা অন্য দুটো মেয়েকে সাফাত ও নাঈম বার বার নিচে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানকার পরিবেশ ভালো না লাগায় দুই তরুণী চলে যেতে চাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন  চলে গেলেন লাকী আখন্দ

এজাহারে আরো বলা হয়, এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক মদ্যপান করিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় সাফাত তার ড্রাইভার বিল্লালকে ধর্ষণের ভিডিও করতে নির্দেশ দেয়। তখন ড্রাইভার বিল্লাল ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে।

ওই দুই ছাত্রী জানান, ‘তারা আমাদের ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে হোটেলের তিনটি কক্ষে আটকে রাখে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে আমাদের দুজনকে অন্য কক্ষে আমাদের আরো দুই বন্ধুকে আটকে রাখে। এরপর আমাদের দুজনকে নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। আমরা বাধা দিয়ে চলে আসার চেষ্টা করি। সাফাত ও নাঈম একপর্যায়ে আমাদের মাথায় পিস্তল ধরে গুলি করার হুমকি দেয় এবং বলে, ‘তোরা আমাদের কথায় রাজি না হলে গুলি করে লাশ কোথায় রাখব কেউ জানবেও না, তোরা আর এ পৃথিবীতে থাকবি না…এরপরও আমরা চেষ্টা করি ওদের কাছ থেকে সরে পড়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি। ওরা কক্ষে আটকে রেখে সারারাত নির্যাতন চালায়। এরপর সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখে।’

দুই শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওই সময় আমাদের ওরা মারধরও করে। এভাবে সারারাত শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে সকালে আমাদের ছেড়ে দেয়। ওই সময় ওরা আমাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিল। চলে আসার সময় বলেছিল- আমরা ডাকলেই চলে আসবে অন্যথা এই ভিডিও ফাঁস করে দিব।’

আরও পড়ুন  দেশে করোনায় আক্রান্ত ৩ লাখ ছাড়াল

পরবর্তীতে সাফাত তার দেহরক্ষীকে তরুণীদের বাসায় পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ভয়ভীতি দেখায়। পুনরায় তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেছিল। তাদের হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়ে এক পর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা।

তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

শনিবার বিকালে তরুণীরা বনানী থানায় হাজির হয়ে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হচ্ছেন, সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সফিক, ড্রাইভার বিল্লাল ও সাফাত আহমেদের বডিগার্ড (অজ্ঞাত)।

মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতেই দুই তরুণীকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায় পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে ফরেনসিক বিভাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এর আগে তরুণীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. মমতাজ আরা, ডা. নিলুফার ইয়াসমিন, ডা. কবিতা সাহা ও ডা. কবির সোহেল।

বনানী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ধর্ষণের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্টটি আমাদের কাছে পৌঁছলেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ