সিলেট | |
প্রকাশিত: 4:43 PM, October 16, 2023
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০১৪ সালে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনে পুনরায় জয় পায় দলটি। বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। যার ফলে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা এখন সরকার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলন করছে। বিরোধী নেতারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, বড় দল হিসাবে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেখান থেকেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হয়। আমরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিরসন করে দিই। এটা একটা নিয়মিত কাজ। বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের একদফা আন্দোলন বা আন্দোলনের নামে যদি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সেটা মানা হবে না। তখন বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সামনে এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করা। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আমেরিকার ভিসানীতি ঘোষণায় সব মহলে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তারা এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। এ ধরনের উদ্বেগ আগে কখনো দেখা যায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের জন্য আমেরিকা ভিসা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ শীর্ষ নেতারা নিয়মিতই অভিযোগ করে বলছেন, নির্বাচন বন্ধ করার জন্য একটা চক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য তারা বিরোধী দল বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করছেন।
আওয়ামী লীগের আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দলীয় কোন্দল। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকায় শাসক দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে সারা দেশে কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে প্রায় খুনোখুনিতে লিপ্ত হতে দেখা গেছে দলীয় নেতাকর্মীদের। আওয়ামী লীগের মতাদর্শ ধারণ করে না এমন অনেকে দলটিতে ঢুকে বিভেদ তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এই বহিরাগতদের নিজেদের প্রয়োজনে দলে আনছেন মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতারা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন কোন্দল সহনীয় পর্যায়ে আনা না গেলে সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হবে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরোধিতা। এ অবস্থায় যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ সারা দেশে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ এখন দলীয় কোন্দলে বিপর্যস্ত। এ অবস্থা বিরাজ করছে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায়।
বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে চলা অপপ্রচার রোধও আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গণভবনে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিএনপি সরকার বিদায় নেওয়ার পর সেনা সমর্থিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর দুই মেয়াদের সরকারে প্রতিনিধিত্ব ছিল ১৪ দলের শরিকদের। কিন্তু বর্তমান সরকারে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। বিষয়টি নিয়ে শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া গত নির্বাচনের আগে মনোনয়ন না পাওয়ায় ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন ক্ষুব্ধ। এই দুটি বিষয় এবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে মোকাবিলা করতে হবে। তাই শরিকদের সন্তুষ্ট করাটাও এবার আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি