নির্যাতন করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখা যাবে না

প্রকাশিত: 2:22 PM, February 7, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন ইসলামের জন্য, দেশের গণতন্ত্রের জন্য ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য যে লড়াই চালিয়েছি সেই লড়াই চলবেই।

তিনি বলেন, কোনো রকম ভয় দেখিয়ে, নির্যাতন করে আমাদের এ লড়াই কে দামিয়ে রাখা যাবে না।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ আমি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি এ দেশেরই নাগরিক। কিন্তু এ দেশে আমার কোনো নাগরিক অধিকার নেই। আমার মতো নির্যাতিত মানুষ এ দেশে আর একজনও নেই। আমিই এ দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ।

তিনি বলেন, এ দেশে আমি রাজনীতি করতে পারবো না, এ দেশে আমার কথা বলার অধিকার থাকবে না।  এ কোনো দেশে আমরা বাস করছি। এ অবস্থা কোনো ভাবেই চলতে দেয়া যায় না।

আরও পড়ুন  খাগড়াছড়িতে ১১টি মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সুপিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছি না উল্লেখ করে গণমাধ্যমেকে ডাক্তারের বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে তিনি বলেন, ডাক্তররাই আমাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রেফারেন্স করেছেন। কিন্ত সরকার ভাবছে আমি ইউকে চলে গেলে হয়তো দেশে ফিরে আসবো না। এজন্য আমার ভিসা প্রাপ্তীতে বাধা দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বন্ধ প্রেস খুলে দেয়া সহ ভিসা দেয়ার জোড় দাবি জানান।

জেল থেকে মুক্তির লাভের পর আজই প্রথম গণমাধ্যমের সাথে তিনি কথা বলেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট ফরহাদ মজহার, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও  দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর গত ২৩ নভেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

আরও পড়ুন  লাঠিটিলা সীমান্তের ওপারে ভারতের পাথারকন্দিতে বাংলাদেশী খুন

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় নিয়ে বিচারপতির কথোপকথন-সংক্রান্ত স্কাইপ কেলেঙ্কারির ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ করায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একই বছর ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৩টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় জামিন শেষে তিনি মুক্তি পান।

সর্বশেষ সংবাদ