পদ্মা সেতুর ৩৪৫০ মিটার দৃশ্যমান

প্রকাশিত: 4:01 PM, February 2, 2020

পদ্মা সেতুর ৩৪৫০ মিটার দৃশ্যমান

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

 

পদ্মা সেতুর ২৩তম স্প্যান বসানো হয়েছে। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩১ ও ৩২ নম্বর খুঁটির ওপর ‘৬-এ’ নম্বর স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৩ হাজার ৪৫০ মিটার। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, চলতি মাসে ৩টি স্প্যান বসানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক।

 

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) এ স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানোর কথা থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।

 

এ দিকে, আরও একটি পিলারের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৭টি পিলারের কাজ সম্পন্ন হলো। বাকি ৫টি পিলারের কাজ আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। আজ ২৩তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সব কয়টি স্প্যান পিলারের ওপর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুন  রবিবার থেকে বাড়বে শীতের প্রকোপ

 

এ বিষয়ে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, গত শুক্রবার পদ্মা সেতুর ২৩তম স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্প্যানটি সেদিন বসানো যায়নি। আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নদীর জাজিরা প্রান্তে ৩১ ও ৩২ নম্বর পিলারের ওপর ২৩তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেই আরও দুটি স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

পদ্মা সেতুর খুঁটির ওপর যে স্প্যানগুলো বসানো হয়েছে, সে স্প্যানের নিচের অংশে এরই মধ্যে এক কিলোমিটারের মতো রেল স্ল্যাব বসে গেছে। আর স্প্যানের ওপর প্রায় ৪০০ মিটার রোডওয়ে স্ল্যাব বসে গেছে। এ পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৮৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। সার্বিক অগ্রগতি ৭৬ শতাংশ।

 

তিনি আরও জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে পদ্মা সেতুর নির্মাণে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। কারণ পদ্মা সেতুতে প্রায় ১ হাজার ১০০ চীনা নাগরিক কর্মরত। এদের মধ্যে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে প্রায় ২০০ নাগরিক ছুটিতে গিয়ে করোনা ভাইরাসের কারণে সেখানে তারা আটকা পড়েছে। তবে করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা মোটেই আতঙ্কিত নই। যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মানুষ এখনো স্বাস্থ্যবীমার বিষয়ে সচেতন নয় : প্রধানমন্ত্রী

 

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুতে প্রথম স্প্যান ‘৭এ’ ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হয়। মূল সেতুর কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

সর্বশেষ সংবাদ