বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধুর সাথে দৈহিক সম্পর্ক

প্রকাশিত: 1:00 AM, January 7, 2017

এস.এম সহিদুল ইসলাম, লালমনিরহাট:

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর এলাকায় এক গৃহবধুর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে । স্থানীয়রা জানান, লতাবর এলাকার দিনমজুর ফজলার রহমান দুই সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মাঝে মধ্যে ঢাকা ও কুমিল্লায় যান। স্বামী ফজলার ঢাকায় যাওয়ার সুবাদে তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন চন্দ্রপুর এলাকার পল্লী চিকিৎসক মুকুল মিয়া।

বিয়ের প্রলোভনে মুকুল মিয়া ওই গৃহবধুর সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। গত মঙ্গলবার(৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে ওই গৃহবধুর বাড়িতে স্থানীয়রা মুকুলকে আটক করে। পরে স্থানীয় মাতব্বর আব্দুল জলিল মৈশালের নেতৃত্বে রাতে একটি বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রপুর ইউপি সদস্য ফজলুল হক, দেলোয়ার হোসেন,সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী, পল্লী চিকিৎসক মনি, লুৎফর রহমান।

বৈঠকে ওই গৃহবধুকেই দোষী করেন মাতব্বররা। এক পর্যায়ে মাতব্বরের চাপে ওই গৃহবধূ ঢাকায় অবস্থানরত স্বামীকে তালাক প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন। স্বামীকে তালাক দেয়ার পর মাতব্বররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মুকুলকে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সাহায্য করেন। পরে ওই এলাকার খামারভাতি গ্রামে জনৈক জয়নালের বাড়িতে গৃহবধুকে রেখে সটকে পড়েন মাতব্বররা।

আরও পড়ুন  মাদরাসা সভাপতির বাড়ি থেকে সরকারি বই জব্দ

গতকাল শুক্রবার (৬ জানুয়ারী) গৃহবধু জানান, তাকে বিয়ের প্রলোভনে এক বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায় চিকিৎসক মুকুল মিয়া। পরকীয়া প্রেমিকের সাথে বিয়ে দেয়ার লোভ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে আব্দুল জলিল মৈশালসহ এলাকার কয়েকজন মাতব্বর। তালাক হওয়ার পর তাকে তার বাবার বাড়ির পাশ্বে রেখে সটকে পড়ে মাতব্বররা। আইনের আশ্রয় না নিতেও হুমকী দিচ্ছেন এবং এক লাখ টাকা নিয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন মাতব্বররা। ওই গৃহবধুর বাবা জানান, তার মেয়ে যদি অন্যায় করে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। সেখানে মেয়ের বিচার হবে। এ ঘটনায় আমি এলাকার মাতব্বরদের বিচার চাই।

মাতব্বর আব্দুল জলিল মৈশাল জানান, ওই গৃহবধুর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামী তাকে রাখতে রাজি না হওয়ায় গৃহবধু নিজেই তালাক দিয়েছেন তার স্বামীকে। তাকে জোর করে ডিভোর্স ফরমে স্বাক্ষর নেয়া হয় নি । চন্দ্রপুর ইউপি সদস্য দেলোয়ার জানান, জোরপূর্বক নয় ওই গৃহবধু নিজেই তালাকনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মকবুল হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ