বোমার স্প্রিন্টারেই র‌্যাব গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যু

প্রকাশিত: 3:22 PM, March 31, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:বোমার স্প্রিন্টারেই মারা গেছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।

শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এসব কথা জানান ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে ১০টার দিকে কর্নেল আজাদের মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহে র‌্যাব নিয়ে যায়।

এর আগে, সকাল ৮টার কিছু আগে তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছে।বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২.৫ মিনিটের দিকে সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ খবর নিশ্চিত করেন।

সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

আতিয়া মহলের কাছেই সেই বিস্ফোরণে দুজন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন আরো অন্তত ত্রিশ জন।গত শনিবার সিলেটে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চলার সময় বোমা বিস্ফোরণে আহত হবার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আজাদকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন  শামসুল ইসলামের জানাজা সম্পন্ন

কিন্তু সেখানকার ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আনা হয়।

কিন্তু পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় গোয়েন্দা প্রধানকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার তাকে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, সিঙ্গাপুরের ‘ডাক্তারদের পরামর্শে’ তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।

২০১১ সালে উপ-পরিচালক হিসাবে সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখায় যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর আজাদ। লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতির পর তিনি গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।সম্প্রতি তার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) বদলি হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর তার বিজিবিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল।

১৯৭৫ সালে আবুল কালাম আজাদের জন্ম হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ এই সামরিক কর্মকর্তা ১৯৯৬ সালে ৩৪তম ব্যচে বিএমএ লং কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০১১ সালে এলিট ফোর্স খ্যাত র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। ওই বছরই তাকে পদোন্নতি দিয়ে গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক করা হয়। আর পরে ২০১৩ সালে তিনি পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন আবুল কালাম আজাদ|

সর্বশেষ সংবাদ