সিলেট | |
প্রকাশিত: 6:42 PM, December 6, 2023
বাংলাদেশের চিকিৎসা অঙ্গনের কিংবদন্তি, দেশের হৃদরোগ চিকিৎসার অনন্য পথিকৃৎ, প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সমগ্র দেশ ও জাতির অকৃত্রিম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত, মানবতার সেবায় আজীবন নিবেদিতপ্রাণ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট, জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. এ. মালিক আর নেই।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার(৫ডিসেম্বর) সকাল ৯.৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা’জিউন। গত কয়েকমাস যাবত তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব এবং নিখাদ দেশপ্রেমিক ৯৪ বছর বয়সে পরলোকে পাড়ি জমালেন।
তদানীন্তন অবিভক্ত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম অপেন হার্ট সার্জারি এবং পরবর্তীতে ঢাকায় এদেশের প্রথম অপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বরেণ্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ব্রিগেডিয়ার (অব.) এ, মালিক-এর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে অবিভক্ত পাকিস্তান এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের চিকিৎসা অঙ্গনের এক গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো।
রাজধানী ঢাকায় সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুম জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ. মালিকের মরদেহ নিয়ে আসা হবে সিলেটে। আজ বুধবার বাদ জোহর দক্ষিণ সুরমার কুচাই নোয়াগাও মাঠে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে নিজ জন্মস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
দৈনিক প্রভাতবেলা পরিবার পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা কওে শোক সন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ডা. আব্দুল মালিক ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক পুরস্কার ও ২০০৬ সালে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, হৃদরোগ চিকিৎসার এই পথিকৃৎ ১৯২৯ সালের ১ ডিসেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪৯ সালেই ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৪ সালে নভেম্বর মাসে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৮ সালে তাকে সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) পেশোয়ারে কর্নেল আজমিরের কাছে মেডিকেল স্পেশালিস্টের যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হন।
১৯৬৩ সালে সরকার তাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠায়। এরপর ১৯৬৪ সালে তিনি এমআরসিপি পাস করেন এবং হ্যামার স্মিথ হসপিটাল অ্যান্ড পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল স্কুল, লন্ডন থেকে কার্ডিওলজিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
আব্দুল মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নেসা খাতুন। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। তার মেয়ে ডাক্তার ফজিলাতুন্নেছা মালিক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট, ঢাকার কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক। তার ছেলে মাসুদ মালিক একজন ব্যবসায়ী ও আরেক ছেলে মনজুর মালিক বর্তমানে কানাডায় কর্মরত।
ব্রিগেডিয়ার আব্দুল মালিকের জানাযা
জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিকের মরদেহ বুধবার সড়কপথে সিলেট নিয়ে আসা হবে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ নোয়াগাঁও গ্রামে বাদ যোহর জানাযা শেষে দাফন করা হবে বলে তাঁর পারিবারিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার বাদ জোহর জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে, দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাদ আসর শ্যামলী শাহী জামে মসজিদ এবং তৃতীয় জানাযা হয়েছে বাদ মাগরিব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ।
ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিকের পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামীকাল বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে লাশবাহী গাড়িতে করে তাঁর লাশ সিলেটে নিয়ে আসা হবে। তারপর তাঁর জন্মস্থান দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ নোয়াগাও গ্রামে বাদ যোহর জানাযা শেষে সেখানেই দাফন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় অধ্যাপক ডা. আব্দুল মালিক এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।রাষ্ট্রপতি আজ এক শোকবার্তায় বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডা. আব্দুল মালিকের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।রাষ্ট্রপ্রধান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) মালিক সর্বজনশ্রদ্ধেয় চিকিৎসক ছিলেন। হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে হৃদরোগের চিকিৎসা সেবায় তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতে তিনি আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন।
ড. মোমেন বলেন, পেশাদার চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন মানবদরদী সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের কল্যাণে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় অধ্যাপক ডা. আব্দুল মালিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) গণ্যমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।শোকবার্তায় তিনি বলেন, আব্দুল মালিক সিলেট তথা বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি ছিলেন।তিনি বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ ছিলেন। একাধারে তিনি একজন সফল চিকিৎসক, খ্যাতনামা শিক্ষক এবং সমাজসেবক। মানবহিতৈষী কর্মের জন্য তিনি নানাভাবে পুরস্কৃত এবং প্রশংসিত হয়েছেন। বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মেয়র ডা. আব্দুল মালিকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি