ভুয়া তালাকনামা দেখিয়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত: 1:57 PM, November 8, 2023

ভুয়া তালাকনামা দেখিয়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রথম স্ত্রী হামিদা বেগমকে তালাক দিয়েছেন মোসলেহ উদ্দিন সরদার– এক কাজির মাধ্যমে এমন ভুয়া তালাকনামা তৈরি করেন মিজানুর রহমান মঞ্জু ও ইউসুফ সরদার। তারা মোসলেহ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন দুই ভাই। মোসলেহ উদ্দিনের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের প্রায় সাত কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন তারা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর থানার ডাইয়ারচর গ্রামে। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। জালিয়াতির ঘটনায় হামিদা বাদী হয়ে মোসলেহ উদ্দিনের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে মঞ্জু ও ইউসুফ এবং তাদের মা আবেদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে শিবচর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে। মামলাটি তদন্ত করেন মাদারীপুর জেলা সিআইডির পরিদর্শক রথীন্দ্রনাথ তরফদার। জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার মঞ্জু ও তাঁর ভাই ইউসুফ এবং কাজি আব্দুল জব্বার শিকদারকে অভিযুক্ত করে মাদারীপুর আদালতে সম্প্রতি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তিনি। আবেদা মারা যাওয়ায় আসামির তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  বন্দর বাজার ফাঁড়িতে ‘সিআরটি’ মোতায়েন

 

জানা গেছে, বিয়ের দুই-তিন বছর পর হামিদা বেগম দৃষ্টিশক্তি হারান। তখনও সংসারে কোনো সন্তান আসেনি। দৃষ্টি হারানো হামিদা সংসারের কাজ করতে পারতেন না। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে ঘরের কাজকর্ম সামলাতেন মোসলেহ উদ্দিন। এক পর্যায়ে হামিদার সঙ্গে পরামর্শ করে দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আবেদা বেগমকে বিয়ে করেন মোসলেহ। কিছু দিন পর দুই সতিনের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। কারণে-অকারণে ঝগড়া হতে থাকে। সংসারে শান্তি ফেরাতে হামিদাকে বুঝিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন মোসলেহ। অবশ্য হামিদার বাবার বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং ভরণপোষণও দিতেন। পরে হামিদা একটি কন্যাসন্তান এবং আবেদা দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন।

 

২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর মোসলেহ উদ্দিন মারা যান। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালে তাঁর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। জমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। টাকার ভাগ যাতে সৎমা হামিদা দাবি করতে না পারেন, সেজন্য তাঁকে বাবার সাবেক স্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করার পরিকল্পনা করেন মঞ্জু ও ইউসুফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজি আব্দুল জব্বারের মাধ্যমে মোসলেহ ও হামিদার ভুয়া তালাকনামা তৈরি করেন। এটি দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ বের করে তা থেকে হামিদাকে বাদ দেন। ওই কাগজপত্র দেখিয়ে মাদারীপুর এল/এ শাখা থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা তুলে ভাগবাটোয়ারা করে নেন মঞ্জু ও ইউসুফ।

আরও পড়ুন  অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত রামরাই দীঘি

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, স্বাভাবিক দৃষ্টিতেও তালাকনামার সই ঘষামাজা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত। এরপরও সই মোসলেহ উদ্দিনের কিনা, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য প্রামাণ্য সই সংবলিত দলিল এবং বিতর্কিত তালাকনামা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার পর তালাকনামার সই ভুয়া প্রমাণ হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মাদবরের চর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মঞ্জু বলেন, আমার সৎমা ১৯৯৮ সালে তালাক হয়ে গেছেন। এটা গ্রামের সবাই জানে। জমি অধিগ্রহণের টাকার ভাগ আমার সৎবোন নিয়েছে। ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ