সিলেট | |
প্রকাশিত: 7:58 PM, October 5, 2023
প্রতিনিধি, জুড়ী:
কৃষি বিভাগ জানায়, মাল্টা দেখতে সবুজ হলেও খেতে অত্যন্ত সু-স্বাদু ও মিষ্টি। বারি-১ জাতের এই মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে। সম্ভাবনাময় এই ফসল চাষাবাদে তুলনামূলক খরচ কম থাকায় সহজে ফলন হয়। সে জন্য কৃষকরা ঝুঁকছেন এখন মাল্টা চাষে।
সরজমিনে পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বড় বড় দুটি পাহাড়ে প্রায় ১২ শতাধিক মাল্টার গাছ দিয়ে তৈরি করেছেন বিশাল বাগান। মাত্র ২ বছর পূর্বে প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন মো: খালেদ উদ্দিন। গাছ রোপণের পরের বছর থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। এরপর চলতি বছর তিনি এই বাগান থেকে মাল্টা পাচ্ছেন। মাল্টার পাশাপাশি তার একই টিলা ভূমিতে রয়েছে কমলা ও জারালেবু। এবং পাশের জমিতে রয়েছে মাছের ঘের, হাঁস-মুরগি ও গরু ছাগলের খামার। বাণিজ্যিক চাষাবাদ হলেও সৌখিন ব্যক্তির এই প্রকল্পের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। কিছুটা সরকারি হলেও বাকি সম্পূর্ণ করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে।
জুড়ীর বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় মাল্টা বাগানের মালিক মো: খালেদ উদ্দিন বলেন, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুরঞ্জিত ধর রনি এর পরামর্শে আমি মাল্টা বাগান শুরু করি। সরকার থেকে সার সহ সকল ধরণের সহযোগীতা পেয়েছি। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত বাগান দেখেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। এবছর মাল্টার ফলন ভালো হয়েছে। গাছ ছোট থাকায় ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু গাছের মাল্টা আমরা গাছ থেকে ছাটাই করেছি কৃষি অফিসারের পরামের্শ। আশাকরি আগামী বছর আমাদের মাল্টার বাম্পার ফলন হবে।
তিনি বলেন, আমাদের বাগানে সরকার থেকে প্রদর্শনীসহ নিজ খরছে ১২০০শত মাল্টা গাছ, ৪শত কমলা গাছ সহ লেবু জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ একর জায়গার উপর আমাদের মাল্টা বাগান। প্রতিনিয়ত ২জন লোক আমাদের বাগানে কাজ করে। এখন পর্যন্ত এই বাগানে আমাদের খরচ হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকার মতো।
পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুরঞ্জিত ধর রনি বলেন, জুড়ী উপজেলায় মাল্টা একটি সম্ভাবনাময় ফসল। সারা বাংলাদেশে জুড়ীর কমলার যেমন সুনাম রয়েছে, আমি আশাবাদী আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে বারি মাল্টা-১ জাতের ফলটি বাজার দখল করে নেবে। আমরা লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প এর মাধ্যমে পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে ছোট বড় বাগান মিলে প্রায় ১০ হেক্টর মাল্টা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বাগানে মাল্টা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এবছর কয়েকটি বাগান মিলে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে। যেহেতু বাগান গুলোর বয়স কম এজন্য পরিচর্যা করতে হবে নিয়মিত এবং বছরে কমপক্ষে ২ বার সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। শুকনা মৌসুমে সেচ দিতে হবে তাহলে বাগান গুলো অনেক দিন টিকে থাকবে।
তিনি বলেন, যারা মাল্টা চাষ করেছে তাদের ফলন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে মো: খালেদ উদ্দিনের মাল্টা বাগান জুড়ীর সবচেয়ে বড় বাগান। এই বাগানের পরিধি আরও বাড়বে। এবছর বাগানে ভালো মাল্টা এসেছে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি