মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি : আংশিক ক্যাম্পাস যাচ্ছে পীরের বাজারে

প্রকাশিত: 2:10 AM, January 31, 2017

শাহনেওয়াজ তালুকদার : চলতি বছরের মধ্যেই সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আংশিক কার্যক্রম যাচ্ছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংশ্লিষ্ট বিভাগ পীরের বাজারে বিশ^বিদ্যালয়ের ভূমি পরিদর্শন করেন। মাটি ভরাট, বিদ্যুতায়ন সহ প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বছরের মধ্যেই আংশিক ক্যাম্পাস স্থানান্তর করা যাবে বলে জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ট্রাস্টিজের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, সার্টিফিকেট বাণিজ্য সহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ দেশের বেশকয়েকটি বিশ^বিদ্যালয়ের নামে শোনা গেলেও মেট্রোপলিটন বিশ^বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমনটি শোনা যায়নি। যদিও বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক নিজস্ব ক্যাম্পাসে অধ্যয়নের চতুর্থ দফা সময়সীমা এই বিশ^বিদ্যালয়টি অতিক্রম করেছে। তথাপি নগরীর বালুচরে ৪ একর ও পীরের বাজারে ৮ একর ভূমি ক্যাম্পাসের জন্য ক্রয় করে নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বিশ^বিদ্যালয়টি।
২০০৯ সালের মধ্যে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে তাদের ইতিমধ্যেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে যাওয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫১টি। বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন এমন ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই পড়ছেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, কিন্তু হতাশাজনক হলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১০টির মান ভাল। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব একই মানের নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র সবদিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। ৮৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টির মান মোটামুটি। এক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মান যথেষ্ট আশাবাঞ্জক।
তথ্য প্রযুক্তিতে একের পর এক সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশ তথা সিলেটবাসীর নজর কেড়েছে। ড্রোন, ডিজিটাল ইভিএম সহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে চ্যম্পিয়ন হয়ে দেশ তথা সিলেটবাসীর জন্য বয়ে এনেছে অনেক সম্মান। ২০১৬ সালে কুয়েটে অনুষ্ঠিত রোবটিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ। এছাড়াও ‘গ্লোবাল রোবোটিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। যার ফলে সিলেটের প্রথম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সিলেটের এই বিদ্যাপিট।
৪ হাজার শিক্ষার্থীর এই ভার্সিটিতে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। প্রতি বছরে তিনটি সেমিস্টার তথা টার্ম থাকে, তিনটি টার্মের নাম তিনটি ঋতুর ইংরেজি নামে নামকরন করা হয়েছে, সেগুলো হলোঃ স্প্রিং, সামার ও অটাম। স্নাতক কোর্সগুলো ৪ বছর মেয়াদি হয়। আর স্নাতকোত্তর কোর্সগুলো ১ বছর মেয়াদি। ২০০৩ সালের তেসরা মে শিক্ষাবিদ ডক্টর তৌফিক রহমান চৌধুরী এই বিশ^বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনটি বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ৪টি অনুষদের অধীনে ৬টি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামের সাথে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২ এপ্রিল ২০১০ এবং ৩১ জানুয়ারি ২০১৫। জিন্দাবাজারে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালালেও চলতি বছরেই সিলেট শহরতলির খাদিমনগরের পীরের বাজার এলাকায় ৮ একর ভূমিতে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হবে।
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টও মো. সালেহ উদ্দিন জানান, দেশের অনেক নামকরা বিশ^বিদ্যালয় এখন পর্যন্ত তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। সে হিসেবে অনেক বিশ^বিদ্যালয়েরই সনদ বাজেয়াপ্ত হবার কথা। মেট্রোপলিটন বিশ^বিদ্যালয় ইতোমধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিদ্যুতায়ন, মাটি ভরাট সহ আনুসাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করেছে। শিক্ষার্থীরাও পীরের বাজারের ক্যাম্পাসটি পছন্দ করেছে। খুব দ্রুততার সঙ্গেই বিশ^বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করে ক্যাম্পাস সেখানে নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ