সিলেট ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ২:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭
আনন্দঝর্ণা ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের একুশ বছর বয়সী আইনের ছাত্রী সাম্য গুপ্তা একটি বাসের পেছনের দিকের একটি আসনে বসে ঝিমুচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তার বুকের উপর কিছু একটা। এটা ছিল তার পেছনের আসনে বসা লোকটির হাত।
‘যে মুহূর্তে আমি বুঝলাম, আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম, চিৎকার করলাম এবং লোকটিকে বললাম তার পরিচয়পত্র দেখাতে।’ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন গুপ্তা।
বড়সড় এ স্ট্যাটাসটিতে সাম্য গুপ্তা ওই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, ওই অভিযুক্তকে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য বাসটিকে ঘুরিয়ে থানার দিকে যেতে বাধ্যও করেন তিনি।
যেসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা গুপ্তার এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন, শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল সেটা জানলে তারা হয়তো আশাহত হবেন।
ফেসবুকে গুপ্তা লিখেছেন, তিনি যখন লোকটিকে চ্যালেঞ্জ করেন, তখন আনুমানিক ৪০ বছর বয়স্ক লোকটি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এসময় বাসটির জনা তিরিশেক যাত্রীও গুপ্তার পক্ষে সোচ্চার হন। কিন্তু তারাও তাকে পরামর্শ দেন এ নিয়ে আর ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে।

গুপ্তা লিখেছেন, ‘আমার সহযাত্রীরা আমাকে বলেন মেনে নিতে এবং ছেড়ে দিতে। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন। মাত্র ক্ষমা চেয়েই তার মত একজন মানুষ পার পেয়ে যাবে, এমনটি হতে দিতে রাজি ছিলাম না আমি।’
“আমি একজন আইনের ছাত্রী হয়েও পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হিমশিম খেয়েছি” – সাম্য গুপ্তা
বিবিসিকে গুপ্তা বলেন, তিনি বাস ড্রাইভারকে রাজি করেন বাসটি ঘুরে পার্শ্ববর্তী থানার দিকে নিয়ে যেতে। যাত্রীরা ওই অভিযুক্তকে ঘিরে ছিলেন। থানায় পৌঁছলে তারাই ওই অভিযুক্তকে ঘিরে ভেতরে নিয়ে যান।
তারপর ওই ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন গুপ্তা। তার নাম গুপ্তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি, অন্য কোন মাধ্যমেও লোকটির পরিচয় প্রকাশিত হয় নি।
গুপ্তা বলেন, তাকে হিন্দিতে জবানবন্দী লিখতে বলা হয়, কিন্তু এই ভাষাটি ঠিকঠাক লিখেতে জানেন না তিনি।
‘এটা জেনে আমি অবাক হই, ভারতের কোন নিরক্ষর মহিলা যদি সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যায়, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে?’
‘আমি একজন আইনের ছাত্রী হয়েও পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হিমশিম খেয়েছি।’
থানা থেকে বেরিয়ে গিয়েই সমস্যার ইতি ঘটেনি বলে ফেসবুকে উল্লেখ করেন সাম্য গুপ্তা। তিনি যখন অন্য একটি বাসে চড়বার জন্য এগিয়ে যান, তখন অভিযুক্ত নিপীড়কের পক্ষ হয়ে কয়েকজন মানুষ তার দিকে এগিয়ে আসেন এবং অভিযোগ তুলে নেবার জন্য বলতে থাকেন।
তারা তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলতে থাকেন বলে উল্লেখ করেন মিস গুপ্তা। তারা বলতে থাকেন, যে হরদম নানারকম পুরুষের সাথে ওঠবস করে তার এ ধরণের অভিযোগের কোন ভিত্তি থাকে নাকি।

গুপ্তার এই অভিযোগ শোনার জন্য আদালত একটি তারিখও ধার্য করে। কিন্তু সেই তারিখ আসার আগেই অভিযোগ তুলে নেন গুপ্তা। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে বিবিসির কাছে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রথমত তিনি দাপ্তরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করেন যার কারণে তার ফোন নাম্বারটি ওই অভিযুক্তের পরিবার পেয়ে যায়। তারা তাকে নিয়মিত ফোন করতে থাকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য। তারা ওই লোকটির দুটি সন্তানেরও দোহাই দেয়।
‘তাদের মতে এটা আদালতে বিচার হবার মতো বড় কোন ব্যাপার নয়’, বলেন গুপ্তা।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি একজন ছাত্রী এবং আমার নিজের রোজগার নেই। আমিই আমার পরিবারে প্রথম আইন পড়ছি। পুলিশের কাছে আমি গেছি এটাই তাদের কাছে ছিল বিরাট ব্যাপার। এটা আমার পরিবারের জন্য বিরাট চাপ হয়ে দেখা দিয়েছিল, এটাও অভিযোগ তুলে নেয়ার একটি কারণ।’

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি