রাষ্ট্রপতি নয়, বরং বিএনপির প্রতি জাতি হতাশ

প্রকাশিত: 12:45 PM, January 26, 2017

মাহবুবুর রহমান

কে.এম. হাসান সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ছিলেন, একসময় বিএনপির রাজনীতিতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল । সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী প্রক্রিয়া দেখে আওয়ামীলীগ আন্দাজ করতে পারে যে এই কেএম হাসানই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান । সাথে সাথে আওয়ামীলীগ বিচারপতি হাসানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, এবং সারাদেশব্যাপী আওয়াজ তুলে যে এই বিচারপতি বিএনপি ঘেঁষা । শুধুমাত্র বিএনপি ঘেঁষা বলে বিচারপতি হাসানকে আওয়ামীলীগ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে মেনে নেয়নি ।

একইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আজিজকেও তারা মেনে নেয়নি । হুট করেই যে তারা বিচারপতি হাসান ও আজিজের বিপক্ষে অবস্থান নেয় তেমনটা নয়, আওয়ামীলীগ এসব বিষয়ে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করে, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, দলের রিসার্চ উইং কে সবসময় সক্রিয় রাখে, ও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সামনে অগ্রসর হয় । এর সুফলও তারা আদায় করে নেয় ।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকেও আওয়ামীলীগ মেনে নেয় নি, ইয়াজউদ্দিনও বিএনপিমনা, আর রাষ্ট্রপতি কীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতোটুকু সেটা আওয়ামীলীগ জানে । বিএনপিমনা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের অধীনে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে যায়নি ।

আর আজকের সার্চ কমিটির বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে যে তারা নাকি রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপে খুব হতাশ!!! তারা মনে করেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক, উনি নিরপেক্ষ ব্যাক্তি, উনি সবার ঊর্ধ্বে, উনি একটা নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান!!! কি সুন্দর ভদ্রোচিত বক্তব্য!!! এতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি কি জানেনা রাষ্ট্রপতি নিয়োগ হয় কীভাবে? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কতোটুকু? আর বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কোনটা বিএনপি কি জানে না? তাছাড়া এর আগেও তো তারা “সার্চ কমিটি”র সার্চিং পলিসি দেখেছে, তাহলে কেন তারা রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপে হতাশা প্রকাশ করে? বিএনপির প্রত্যাশার নমুনা দেখে তো জাতি হতাশ । দলের সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম/তৎপরতা নাই, দলের সুনির্দিষ্ট গোছানো কোন রিসার্চ উইং নাই, জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোতে কোন পদক্ষেপ নাই, দলীয় ও জাতীয় রাজনীতির মাঝে কোনরকম সমন্বয় নাই, দলীয় প্রস্তাবনার বিষয়াবলীর উপর কোন হোমওয়ার্ক নাই এই দল আবার জাতীয় রাজনীতি করে!!! দলের যেকোনো স্তরের যেকোনো নেতা-কর্মীর সাথে কথা বললে সবার ভাবটা এমন যে মনে হয় “ক্ষমতায় তারা আসে আসে…। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক কথাবার্তা তাঁদের পছন্দ না, তারা ক্ষমতায় বিশ্বাসী……এভাবে চললে কাঁচকলা পাইবা । ঘুরো, দেখো কি হয় । বর্তমান সার্চ কমিটিতে দুজন বিচারপতি আছেন, তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি? সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন? এসব বিষয়াবলী সম্পর্কে বিএনপির কয়জন নেতাকর্মীর ধারণা আছে? আর তারা এসব বিষয়ে কি দেশবাসীকে কোন ম্যাসেজ দিতে পারছে? অন্যান্য সদস্যরা কে? তারা কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী? কীভাবে তারা বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এগুলোর ব্যাপারে কি বিএনপি দেশবাসীকে কোন বার্তা দিতে পারছে? এসব কিছুই না করে তারা বলে দিয়েছে যে বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপে হতাশ!!! আপনারা হতাশই হবেন, আর জাতীয় নির্বাচন কোন দলঘেঁষা বা দলমনা ব্যক্তির অধীনে নয় বরং সরাসরি দলীয় সভানেত্রী/সভাপতি বা প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হবে, আর আপনারাও সেটাই মেনে নিতে বাধ্য হবেন । যদি এভাবেই চলেন আপনারা হতাশ হতে হতেই নাই হয়ে যাবেন, অপেক্ষা করেন ।

সর্বশেষ সংবাদ