শাবি’তে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের গোলাগুলি

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৮

শাবি’তে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের গোলাগুলি

সংবাদদাতা,শাবি:  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

২০ মার্চ মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ এস এম আব্দুল্লাহ রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত  ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক সংলগ্ন সাতকরা রেস্টুরেন্টে ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আবু সাইদ আকন্দ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারীদের সঙ্গে সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ রনি গুলিবিদ্ধ হন। তবে রনি কোন পক্ষের সমর্থকদের গুলিতে আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে একপক্ষ অপরপক্ষকে দোষারোপ করছেন।

আরও পড়ুন  রায়হান হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

এ বিষয়ে সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আমি ওই সময় ময়মনসিংহ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়ে একটা মিটিংয়ে ছিলাম। এ সময় অতর্কিতভাবে সাঈদ-সবুজের কয়েকজন অনুসারী আমার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। বিনা উসকানিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের পেটোয়া বাহিনীর ছোড়া গুলিতে রনি নামে এক শিক্ষার্থী আহত হন।’

এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে সাঈদ-সবুজ পক্ষের সমর্থক সৈয়দ জুয়েম বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন সমর্থক ওই রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সময় তারেকের অনুসারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তারেকসহ তাঁর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে এ সময় তারেক পাঁচটি গুলি ছুড়েন, যা অনেকেই দেখেছেন। তাঁর গুলিতেই রনি আহত হয়েছে।’ এখন নিজের (তারেক) অপকর্মের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন এ নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  ২৪ ঘন্টায় ৪৫জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫০৪২ জন

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে ঘটনা শুনেছি। পাঁচটি গুলি করার খবর পেয়েছি। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ বাড়ানো হবে।

এদিকে এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ-সুবজের অনুসারীরা শাহপরান হলের সামনে অবস্থান করছে। এ ছাড়া তাঁরা ছাত্রলীগ নেতা তারেকের নিয়ন্ত্রিত শাহপরাণ হলের কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষ দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ল্যাপটপ, মোবাইল, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে তারেকের অনুসারীরা ক্যাম্পাসের বাইরে ও হাসপাতালে অবস্থান করছে। তাঁরা যেকোনো সময় আবাসিক হলে অবস্থান সুসংহত করতে আক্রমণ চালাতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি সূত্র।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ