শিক্ষকদের কান্নায় পিছু হটল পুলিশ

প্রকাশিত: 3:20 PM, April 4, 2019

শিক্ষকদের কান্নায় পিছু হটল পুলিশ

প্রভাতবেলা ডেস্ক: স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ ও কোডবিহীন মাদরাসাগুলো মাদরাসা বোর্ডের কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতি। এ দাবিতে বুধবার ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকেরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করার উদ্দেশে পদযাত্রা করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমিতির মহাসচিব মাওলানা কাজী মোখলেছুর রহমান।

গতকাল দিনভর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে বিকেলে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করার ঘোষণা দিলে সারা দেশ থেকে আগত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার বিরোধিতা করেন এবং অঝরে কান্নাকাটি শুরু করেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, সারাজীবন বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন আর অপেক্ষা করতে চাই না। সরকার দাবি মেনে নেয়ার পরও বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য শিক্ষকেরা ঘরে ফিরে যেতে চান না। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, ঘরে ফিরে পরিবার-পরিজনকে কী দিয়ে আশ্বস্ত করব। এর চেয়ে এখানে যেন আমাদের মৃত্যু হয়। এ সময় শত শত মাদরাসা শিক্ষকের অঝোর কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। কর্মসূচি সমাপ্ত করতে পীড়াপীড়ি করা পুলিশ সদস্যরাও শিক্ষকদের অঝোর কান্নায় পিছু হটে যায়। পুরো এলাকাজুড়ে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সমাবেশ থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের উঠিয়ে দিতে উদ্ধত পুলিশরা একপর্যায়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  মহামারী করোনা: যেভাবে থামতে পারে মৃত্যুর মিছিল

সমাবেশে সমিতির সভাপতি মাওলানা হাফেজ কাজী ফয়েজুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ১৬ দিন শিক্ষকেরা অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় শিক্ষাসচিব মো: আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের দাবি পূরণে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষকেরা হতাশ। শিগগিরই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে জাতীয়করণের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারের সব কাজে অংশগ্রহণ করে ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকেরা। অথচ মাস শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। কিন্তু ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকেরা তেমন কোনো বেতন পান না। এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসায় কর্মরত শিক্ষকেরা সর্বসাকুল্যে প্রধান শিক্ষক দুই হাজার ৫০০ টাকা সহকারী শিক্ষক দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। আর বাকি প্রায় আট হাজার ৫০০টি মাদরাসার শিক্ষকরা গত ৩৪ বছর ধরে বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত।

আরও পড়ুন  “শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক সমিতির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রাইমারির ন্যায় মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, কোড বিহীন মাদরাসাগুলো মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তভুক্তকরণ, প্রাইমারির মতো প্রতিটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অফিস সহকারী নিয়োগ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের পিটিআই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

মানববন্ধনে সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো: তৌহিদুল ইসলাম, শিক্ষক মিজানুর রহমান, আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকেরা তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ