শ্রীমঙ্গলে হনুমান রক্ষায় এগিয়ে এলো র‍্যাব

প্রকাশিত: 8:01 PM, January 21, 2020

শ্রীমঙ্গলে হনুমান রক্ষায় এগিয়ে এলো র‍্যাব

সংবাদদাতা, শ্রীমঙ্গল :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পশ্চিম লইয়ার কুল এলাকায় গ্রাম বাসীর হাতে হনুমানের জীবন বিপন্ন হবার কথা শুনে হনুমান রক্ষায় এগিয়ে এলো র‍্যাব ৯।

 

এর আগে গ্রামের মানুষের গাছের ফলমূল শাকসবজি খেয়ে ফেলাসহ মানুষের ঘড় বাড়িতে ঢুকার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে হনুমান গুলোকে মারতে লাঠিসোটা ও গুলতি নিয়ে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল গ্রামবাসী। পরে খবর পেয়ে র‍্যাবের একটি টিম গ্রামে গিয়ে মসজিদের মাইকে আহ্বান করে ও সাধারণ জনগণকে হনুমানের উপর আক্রমণ না করার নির্দেশ দিয়ে আসে।

 

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে পশ্চিম লইয়ার কুল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে গাছগাছালি ঘেরা এই গ্রামে ১০-১২ টি হনুমান একগাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রামের একটি তেঁতুল গাছে বসে তেঁতুল খাচ্ছে। সীম গাছের সীম খাচ্ছে। গ্রামবাসী লাঠি গুলতি ইত্যাদি নিয়ে বার বার তাদের তাড়া করছে। হনুমানরাও মানুষের দিকে ছুটে আসছে। গাছ গাছালির পাশাপাশি বিদ্যুতের হাই ভোল্টেজ তার রয়েছে। যেখানে যেকোনো সময় তারা আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন  হবিগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত

 

র‍্যাব-৯ এর অপারেশন অফিসার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, বন্যপ্রাণীগুলোর জীবন বিপন্ন জানতে পেরে আমরা তাদেরকে রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করি। হনুমানগুলোকে রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। র‍্যাব এলাকার ইউপি সদস্য নিয়াজ ইকবাল মাসুদের সাথে কথা বলে তাকে এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে র‍্যাব-৯ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শওকাতুল মোনায়েমের নির্দেশে র‍্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হনুমানগুলোকে না মারার বিষয়ে এলাকাবাসীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসে। অন্যান্য অপরাধ নির্মূলের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রামের রিমন ইসলাম বলেন, সপ্তাহ খানেক ধরে ১০-১২ টি হনুমান এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষের খেতের সবজি, গাছের ফলমূল খেয়ে ফেলছে। মানুষের ঘরে পর্যন্ত ঢুকে যাচ্ছে। গ্রামবাসী খুবই আতঙ্কগ্রস্ত এসব হনুমানের কারণে। বিশেষ করে শিশুরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

 

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, আমরা এই এলাকায় গিয়ে দেখে এসেছি। এলাকাটিতে প্রচুর গাছ ও বাঁশ ঝাড় রয়েছে। হনুমান গুলো গাছের মগডালে থাকায় তাদের ধরা যায়নি। এমনিতে হনুমান মানুষ কে আক্রমণ করে না। তবে এই এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনে প্রাণীগুলো বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ অবস্থায় থাকায় যেকোনো সময় প্রাণীগুলোর উপর হামলা হতে পারে।

আরও পড়ুন  বানিয়াচংয়ে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

 

প্রভাতবেলা /২১-জানুয়ারি-২০/ তৌহিদ’জিহান

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ