সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মোমেন , বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা

প্রকাশিত: 6:35 PM, August 25, 2025

সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মোমেন , বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা

প্রভাতবেলা প্রতিব্দেক♦ সন্ত্রাসীদের ভয়ে গোপনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এক ব্যবসায়ি ও রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফিরলে তাকে হত্যা করা হবে এমন আতংকে রয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। শুধু তাই ইতিপুর্বে দেশে থাকাকালে” তিন “দফায় তার উপর হামলা, তার কিশোরী কন্যাকে শ্লীতাহানি, তার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও জীবন বাচাতে পালিয়ে বেড়ানো এই ব্যবসায়ি ও রাজনৈতিক নেতার নাম মোঃ রাজু আহমেদ মোমেন (৩৮)। তিনি রাজধানি ঢাকার ডেমরা থানার হোল্ডিং নং ৪৩ ডগাইর পশ্চিমপাড়া ডাকঘর সারুলিয়ার মোঃ নুরুল ইসলাম ও শাহানুর বেগমের পুত্র। রাজনৈতিক ভাবে মোঃ রাজু আহমদ মোমেন কর্নেল ( অবঃ) অলী আহমদ প্রতিষ্টিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ( এলডিপি) ঢাকা ৫ আসনের সাংগঠনিক সম্পাদক।
স্হানিয় লোকজন, ব্যবসায়ি সহ বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় রাজু আহমদ মোমেন এক সময় আওয়ামীলীগের রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালে তিনি এলডিপিতে যোদান করেন। এর পর থেকে আওয়ামী যুবলীগের একটি গ্রুপ তার উপর ক্ষুদ্ব হয়ে ২০২৩ সালের ১১ ই নভেম্বর ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী অভি, এহসান, ইমন ও রাসেলের নেতৃত্বে মোমেনের উপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এর আগে সন্ত্রাসীরা মোমেনের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাদা দাবী করে। তিনি চাদা না দেওয়া ও আওয়ামীলীগ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেয়ায় তার উপর এই হামলা বলে জানা গেছে। সেদিনের ঐ হামলায় মোমেন চার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে তার পরিবার ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে। এর পর রাজু আহমেদ মোমেন তার বাসা পরিবর্তন করে ফেলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা নানা কৌশল ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার ঠিকানা জেনে যায় এবং এরই অংশ হিসাবে তাকে অনুসরন করে ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার উপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। ঐ দিন সন্ত্রাসী রাসেলের নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি গ্রুপ তার উপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে মোমেন কোন রকম দৌড়ে একটি বাসায় আশ্রয় নিয়ে তাদের সহায়তায় জীবন রক্ষা পান। এসব ঘটনার পর রাজু আহমেদ মোমেন অনেকটা ফেরারি জীবন কাটাতে থাকেন। কিন্তু এর মাধ্যেই তার জীবনে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়। ২০২৪ সালের ৩ মে তার দশ বছরের কিশোরী কন্যাকে ইমন, রাসেল অভি ও এহসান এর অন্যতম সহযোগি ও সকল অপকর্মের হুতা রাজন শ্লীতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মোমেন স্হানিয় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ ক্ষমতাশীন দলের কয়েক নেতার চাপে মামলার পরিবর্তে তাকেই থানায় আটকে রাখে। পরে পুলিশের দাবীর প্রেক্ষিতে মোমেনর স্ত্রী নিকট আত্বীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার কর্য করে আনা ও নিজেদের জামানো সব মিলিয়ে পুলিশ কে মোটা অংকের একটি টাকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান। কিন্তু এর পরই মোমেন থানায় কেনো মামলা করতে গেলেন এই অজুহাতে ঐ রাতেই রাজনের ভাই রাকিব তার দলবল নিয়ে এসে মোমেনের বাড়ি ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষপ করে মোমেনের নাম ধরে ডাকতে থাকে। এ সময় অবস্হা বেগতিক দেকে মোমেন বাসা ছেড়ে পালিয়ে যান। ১১ নভেম্বরের পর রাজু আহমেদ মোমেনের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্টাম গ্রীন বাংলা কম্পিউটারেও হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা। জীবন বাচাতে মোমেন যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ঠিক এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা তার দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লোটপাট চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে বলে জানা গেছে।
এ অবস্হায় রাজু আহমদ মোমেন ১৬ জুলাই ২০২৪ মাল্টিপল ভিসা নিয়ে কানাডার উদ্দেশ্য দেশ ত্যাগ করেন। ১৭ জুলাই তিনি কানাডায় পৌছান। কিন্তু সেখানেও তাকে ভালো থাকতে দেয়নি সন্ত্রাসীরা । ২০২৪ সালের ২০ জুলাই কানাডার টরন্টোতে হঠাৎই দেখা হয়ে যায় সন্ত্রাসী অভির ভাই অহির সাথে। অহি কানাডায় আওয়ামীলীগের রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিল এবং সে দলীয় কর্মকান্ডে বেশ প্রভাব রাখতো। রাস্তায় মোমেন কে দেকে সে তার সহযোগি আরও ৩/৪ জন কে নিয়ে মোমেন কে অনুসরন করতে থাকে।
মোমেন ঘটনা আচ করতে পেরে কৌশলে সটকে পড়েন। পরে তিনি কানাডা, ও দেশে অবস্হান রত তার নিকট জনদের ঘটনাটি খুলে বলেন। তার পরিবার পুরো বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্টে অবস্হান রত তার মামা আব্দুল বারীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে তিনি তার মামার সাথে কথা বলে জীবনের ঝুকি নিয়ে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই যুক্তরাষ্টে প্রবেশ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার অভুত্থানে ফেসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে মোমেন আশায় বুক বাধেন তিনি এসময় দেশে ফিরে আসবেন কিন্তু তিনি অবাক হয়ে লক্ষ করলেন যারা তার উপর হামলা করেছে এবং তাকে দেশ ছেড়ে পলাতে বাধ্য করেছে সেই সব আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী অভি, ইমন, রাসেল এহসান রাকিব,অহি রাজন রাতারাতি বিএনপি, জামাত ও এনসিপি তে যোগ দিয়ে সেই আগের চরিত্রেই ফিরে এসেছে। শুধু তাই এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যেই ২০২৪ সালের ১০ই অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের ২০আগষ্ট দু” দফায় তার ডেমরার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা লুট সহ মুল্যবান অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই বলে হুমকী দিয়ে যায় যে মোমেন কে যখনই আমরা হাতের কাছে পাব ঐ দিনই হবে তার শেষ দিন। এ অবস্হায় জীবন হানির শংকায় পালিয়ে আত্বগোপনে দিন কাটছে ব্যবসায়ি ও এলডিপি নেতা রাজু আহমদ মোমেনের।

সর্বশেষ সংবাদ