সিলেট ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, সিলেট♦ ডা. এ এইচ এম শাহ আলম (সাগর)। সিলেট নগরীর মধুশহীদে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস এ প্র্যাকটিস করেন। অভিযোগের পাহাড় নয়, সাগরই বলা যায় তার বিরুদ্ধে। মোটা দাগে অভিযোগ বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে করোনা আক্রান্ত নন মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেন। নিজেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। নিজে করোন আক্রান্ত হয়েও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে প্র্যাকটিস করেছেন চেম্বারে।
মুলত: এসব অভিযোগের সুত্র ধরেই র্যা ব তাকে গ্রেফতার করে। ভ্রাম্যমান আদালত ডা. এ এইচ এম শাহ আলম (সাগর)কে ৪মাসের কারাদন্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।
ডা. এ এইচ এম শাহ আলম (সাগর) বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত একজন চিকিৎসক । এর সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী তাও সত্য। প্যাডে উল্লেখিত মেডিসিন,হৃদরোগ,মানসিক চাপ, ডায়েবেটিকসের চিকিৎসক এসবের কোন ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ডা. শাহ আলম নিজেকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার বলে উল্লেখ করেন প্রতিটি প্রত্যয়নপত্রে, প্যাডে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডা. এ এইচ এম শাহ আলম নামের কোনো মেডিকেল অফিসার তাদের এখানে নেই বলে গণমাধ্যমকে জানায়।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, প্যাডে নিজেকে ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসক লিখে থাকলে তিনি রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
করোনা আক্রান্ত নন, এমন প্রত্যয়নপত্র দিয়ে শাহ আলম নিতেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশে উপসর্গহীন রোগীদের করোনা পরীক্ষার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করতেন প্রত্যয়নপত্রে।
একটি প্রত্যয়নপত্রেই সব ওলট পালট হয়ে যায় ডা. শাহ আলমের। তিনি কতটি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দম্পতিকে দেয়া প্রত্যয়নপত্রই তার জন্য কাল্ হয়ে দাড়ায়। চাউর হয়ে যায় এই নন কভিড সার্টিফিকেট। অভিযানে নামে র্যালব । পাকড়াও করে তাকে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আলী নগর গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কামাল আহমেদ এবং তার স্ত্রী আফিয়া খাতুন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবার জন্য নন কোভিড সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এমন সার্টিফিকেট মেলে। বিনিময়ে দিতে হয় মাত্র ৪ হাজার টাকা। এই সনদ দেন ডা. এ এইচ এম শাহ আলম।
আত্মীয়ের কথামত সিলেট নগরীর মধুশহীদ এলাকায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসে ডা. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে নেন দুটি নন কভিড সার্টিফিকেট। ১০ জুলাই দুটি সার্টিফিকেট দেন ডা. শাহ আলম।
প্রত্যয়নপত্রে লেখেন, কামাল আহমেদ ও আফিয়া খাতুনকে তিনি তার চেম্বারে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তাদের শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ নেই।
সার্টিফিকেটে ডা. শাহ আলম আরও লেখেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে উপসর্গহীন কারো করোনা পরীক্ষার সুযোগ নেই।
অভিযুক্ত ডা. এ এইচ এম শাহ আলম। তিনি নিজেও একজন করোনা আক্রান্ত রোগী। গত ১৪ জুলাই তার করোনা পরীক্ষার ফলাফলে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরও তিনি চেম্বারে রোগী দেখেছেন। দিয়েছেন করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট।
ভুক্তোভোগী প্রবাসী দম্পতির ভাতিজা আনোয়ার হোসেন জানান, ১০ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেসে গেলে দুজনের কাউকেই পর্যবেক্ষণ না করেই নন কভিড সার্টিফিকেট দেন ডা. শাহ আলম।
তিনি জানান, এই সার্টিফিকেটে কাজ না হওয়ায় ঢাকার একটি বেসরকারী পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে নমুনা দিয়ে পরীক্ষা শেষে সনদ নিয়ে ১২ জুলাই এমিরেটস এয়ারলাইন্সে করে যুক্তরাষ্ট্রে যান এই দম্পতি।
প্রতারণাসহ করোনা আক্রান্তের বিষয়ে ডা. এ এইচ এম শাহ আলম বলেন, আমি ভুল করেছি। এমন ভুল আর হবে না। এমন সার্টিফিকেট দেয়া ঠিক হয়নি। আমি ক্ষমা চাচ্ছি।
প্যাডে ওসমানীর মেডিকেল অফিসার লেখা প্রসংগে তিনি বলেন, এক সময় অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করেছি।
করোনা সংক্রমিত হয়েও কীভাবে চেম্বারে রোগী দেখলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহ আলম বলেন, ১৬ জুলাইয়ের পর আর চেম্বারে বসিনি। এর আগে জানতাম না যে আমি করোনা আক্রান্ত।
এ বিষয়ে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসের সিলেটের মহাব্যবস্থাপক এম এ মতিন মাসুক প্রভাতবেলাকে বলেন, আমাদের বিপনন কর্মকর্তারা ডা. এ এইচ এম শাহ আলমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে কাজ করতে দেখেছেন। তাই তার কাগজপত্র আর যাচাই করা হয়নি। আর ১৬ জুলাই করোনা সংক্রমনের কথা অবগত হলেই এই চিকিৎসককে চেম্বারে আসতে নিষেধ করে দিই আমরা।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি