সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড, ১৫ বছরেও হয়নি বিচার

প্রকাশিত: 12:44 PM, January 27, 2020

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড, ১৫ বছরেও হয়নি বিচার

 

প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ:

 

আজ (২৭ জানুয়ারি) সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো । দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা ভয়ানক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে প্রায় ৪ বছর পূর্বে। কিন্তু সাক্ষী না আসা, আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় ঠিক মতো আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচারকার্য এখন দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে।

 

 

অপরদিকে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলাটির চার্জশিট প্রায় ১ বছর পূর্বে দেওয়া হলেও এখনও এটির চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অবিলম্বে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করেন নিহতদের পরিবার ও আহতরা।

 

 

তবে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ করেছেন শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া।

 

 

২০০৫ সালের এই দিনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এতে আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ ৪৩ জন। উক্ত ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন  উত্তাল সিলেট: ফ্রান্স সরকারকে ক্ষমা চাইতে হবে- মেয়র আরিফ

 

 

কিন্তু দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় ৪ বছর পূর্বে। এখন পর্যন্ত ১৭১ জন সাক্ষীর মাঝে মাত্র ৪৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। আর বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট প্রায় এক বছর পূর্বে দেওয়া হলেও নানা জটিলতায় এখনও আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা সম্ভব হয়নি।

 

 

এ বিষয়ে হামলায় আহত হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির বলেন, উদীচীর সভায় বোমা হামলার ঘটনায় ১৯ বছর পর এসে বিচার হয়েছে। এখানে ১৫ বছর না ১৯ বছর সেটি কোনো বিষয় নয়। অপরাধ যারা করে তারা কোনদিন রেহাই পায় না। কিবরিয়া হত্যার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত ছিল তাদের বিচারও অবিলম্বে মানুষ দেখতে পাবে ইনশাআল্লাহ।

 

 

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া মামলার চার্জশিট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ঠিকমতো তদন্ত হয়নি। চার্জশিটও সঠিক নয়। যারা লাইট বন্ধ করেছে, যে গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছে তাদের নাম আমরা জানি। কিন্তু তাদের পেছনে কে? কারা আসল মদদ দাতা এবং গ্রেনেডের উৎস কি সেটি তারা জানাতে চায়নি।

 

 

মামলা দুটির বাদী হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান চার্জশিট সম্পর্কে ড. রেজা কিবরিয়ার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, চার্জশিট ঠিক না হওয়ায় আমরা ৩ বার নারাজি দিয়েছি। পরবর্তীতে যখন চার্জশিট এলো তখন সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিচারকার্যও শুরু হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর তিনি এ নিয়ে কেন মন্তব্য করলেন আমি জানি না। হতে পারে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম পরিবর্তনের কারণে। তিনি সরকারের সাথে ভিন্ন মত পোষণ করে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এটির কারণেও হতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি কিবরিয়া হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে একদিন হবে।

আরও পড়ুন  স্বামীর খোঁজে হবিগঞ্জে পাকিস্তানি নারী

 

 

মামলার আইনজীবী সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, হত্যা মামলার মোট সাক্ষী রয়েছেন ১৭১ জন। এর মাঝে ৪৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। কারণ প্রথমত সাক্ষীরা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তাদের ঠিকমতো আনা সম্ভব হয় না। তাদের দেখা যায় একই দিন একাধিক আদালতে মামলার তারিখ থাকে। আবার তাদের আনার জন্য নিরাপত্তারও বিষয় জড়িত রয়েছে। ফলে অনেক সময় সাক্ষী এলেও ঠিকমতো আসামিদের হাজির করতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয় না।

 

 

তিনি আরও বলেন, আইনে বলা আছে অবশ্যই আসামিদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে। অনেক সময় বিচারকও থাকেন না। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী নির্ধারিত তারিখ রয়েছে।

 

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ