সিসিক নির্বাচন: নানা কথা, নানা গুজব

প্রকাশিত: 2:13 AM, November 18, 2017

কবীর অাহমদ সোহেল:  সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা হিসেব নিকেষ। বিধি মোতাবেক ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচন হবার কথা। তবে এনিয়ে অন্দরে বাহিরে চলছে ভিন্ন কৌশল পরিকল্পনা। বাতাসে উড়ছে নানা কথা। নানা গুজব। এর কিছু দৃশ্যমান কিছু অদৃশ্য।

মহল বিশেষ মনে করছেন জাতীয় নির্বাচনের আগেই সরকার সিটি করপোরেশন বিশেষ করে সিলেট সিটি’র নির্বাচন করে নিতে চায়। কেননা এখানে সরকার দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান যেকোন বিচারে জনপ্রিয়। নির্বাচনী বাজারে কামরান অতুলনীয়। সিটি নির্বাচনের জনমত জাতীয় নির্বাচনে সহায়ক হবে  এমন চিন্তায় আওয়ামীলীগ আগেই নির্বাচনের পক্ষে। গত ৬ মাস ধরেই কামরান সে লক্ষেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

অপরপক্ষ ভাবছেন ঠিক উল্টো। তারা বলছেন সাম্প্রতিক জনমত সরকারের বিপক্ষে। কাজেই সিটি নির্বাচন সরকারের জন্য বুমেরাং হতে পারে। তাদের মতে জাতীয় নির্বাচনের পরে সিটি নির্বাচন আওয়ামীলীগের জন্য নিরাপদ। তবে দলের দায়িত্বশীল কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

আওয়ামীঘরে যখন এমন চিন্তা ভাবনা। তখন বিএনপি’তে কী চলছে? কার্যত: নেতৃত্ব শূণ্য সিলেট বিএনপি। যে যার মত করে চলছে , ভাবছে। সম্প্রতি মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জানান দেন। কিছুদিন বেশ তৎপরতা দেখান। সম্প্রতি আবার নীরব । সুত্রমতে, দলের ভেতরে বাহিরে তেমন সাড়া পাননি সেলিম।

আরও পড়ুন  শ্রমিক নেতা রিপন হত্যা মামলার পলাতক আসামী গ্রেফতার

এই অবস্থায় ১৪ নভেম্বর রাতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দেখা করেন বেগম জিয়ার সাথে। কি কথা হয়ে খালেদা জিয়ার সাথে? প্রভাতবেলার এমন প্রশ্নের জবাব  পরিস্কার দেননি আরিফ। বলেছেন কথা হয়েছে ওয়ান টু ওয়ান। প্রার্থীতার বিষয় ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট’ নিশ্চিত বলেন মেয়র আরিফ। সুত্রমতে, শীঘ্রই আরিফুল হক চৌধুরী যুক্তরাজ্য সফরে যাবেন। দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতার আশির্বাদ তার (আরিফের) পক্ষেই থাকবে এমন আশাবাদ আরিফুল হক চৌধুরীর।

দেশের বৃহৎ দুই দলের এই যখন অবস্থা । তখন দেশের রাজনীতিতে কোনঠাসা জামায়াত সিসিক নির্বাচনের দৌঁড়ে অনেকটা এগিয়ে। ১৫ নভেম্বর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে  এই প্রার্থিতা ঘোষণা করে জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে দলের প্রার্থী হচ্ছেন। বুধবার সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ২নং বার হলে অনুষ্ঠিত আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি।সিলেট জেলা বারের প্রায় দুই শতাধিক আইনজীবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ লালা ঘোষণা বলেন, ‘অ্যাডভোকেট জুবায়েরের মতো জেলা বারে এমন সজ্জন, সৎ, যোগ্য ও মেধাবী আইনজীবী পেয়ে সত্যিই আমরা গর্বিত। এমন মিষ্টভাষী ও সাদামনের মানুষ মেয়র হবে শুনলে খুশিতে বুকটা ভরে যায়। আমি কোনো দলের রাজনীতি করি না। রাজনৈতিক ব্যাপারে আমি কারো নিকট দায়বদ্ধ নই। অ্যাডভোকেট জুবায়ের মেয়র পদে প্রার্থী হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি। অ্যাডভোকেট জুবায়েরের দলকে ধন্যবাদ যে পুণ্যভূমি সিলেটের মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনীত করেছে।’

আরও পড়ুন  সিলেট মহানগর বিএনপির গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ

কারান্তরীণ অবস্থায় এডভোকেট জুবায়েরের পক্ষে গত নির্বাচনেও মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছিল। পরে তার দল জোটের স্বার্থে প্রত্যাহার করে নেয়। এবার কী একি নাটক না অন্য কিছু? দলের ভেতরে বাহিরে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। জামায়াতের ‘অতি আবেগী’ শ্রেণীর কর্মী সমর্থকরা জুবায়েরকে এখনি মেয়র মনে করে কল্পনার রাজ্যে বিভোর। অাবার পরিপক্ক নেতা কর্মীরা সবদিক বিবেচনা করে এগুচ্ছেন। জামায়াতের দলীয় এক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি জুবায়ের এর প্রার্থীতার পক্ষে নই, তিনি সৎ সজ্জন ভাল মানুষ। কিন্তু নগরবাসি তাকে ভোট দেবে এমন কি তিনি করেছেন? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন , তাঁর প্রার্থীতা ওয়ার্ড পর্যায়ে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে।

জামায়াতের সূধীমহলের অনেকেই মনে করছেন, সিসিক নির্বাচনে জুবায়েরের প্রার্থীতায় বেনিফিসিয়ারী হবে আওয়ামীলীগ।

সুত্রমতে, জামায়াত নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। কারো করুণা বা দাক্ষিণ্য তাদের কাম্য নয়। তাঁরা নিজেকে যেমন রাজা ভাবেনা তেমনি কারো প্রজাও নয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলের শক্তিমত্তা আর জনসমর্থন জানান দিতে চায়। আর সে লক্ষেই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সৎ গ্রহণযোগ্য একজন প্রার্থী হিসেবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ