সিলেট | |
প্রকাশিত: 3:13 PM, January 27, 2020
আনন্দ ঝর্ণা ডেস্ক:
মুজিব শতবর্ষ ও রঙ্গালয় সুনামগঞ্জের ৩য় বছর পদার্পনে সাংস্কৃতিক উৎসবে সুনামগঞ্জের হাসনরাজা মিলনায়তনে মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘বাঘের শিন্নী’।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ভবতোষ রায় বর্মণের রচনা ও পরিচালনায় এ নাটকটিতে সিলেট জেলা শিল্পকলার অভিনয় বিভাগের প্রশিণার্থীরা অভিনয় করেছেন।
শীত শীত আবহাওয়ায় সুনামগঞ্জের শিল্পকলায় সন্ধ্যা থেকেই রঙ্গালয়ের সাংস্কৃতিক উৎসবে দর্শক সমাগম বাড়তে থাকে। বাঘের শিন্নী নাটক মঞ্চায়িত হবার সময় হাসন রাজা মিলনায়তনে গ্যালারি ভর্তি দর্শক ছিলো।
জানা যায়, বিলুপ্ত সংস্কৃতি বাঘের শিন্নীর গান নিয়ে নাটকটির মূল পটভূমি রচিত। এক সময় বাংলা জুড়েই ছিলো বাঘের অবাধ বিচরণ। জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানব সভ্যতার বিস্তারের ফলে বনাঞ্চল সংকুচিত হয়ে যায়। এক সময় শিকারের আশায় বাঘ লোকালয়ে হানা দিতে শুরু করে। বাঘের থাবা থেকে গৃহপালিত পশুপাখি ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়। গ্রামের গৃহস্থরা বাঘের আক্রমণ থেকে রা পেতে সারারাত আগুন জ্বালিয়ে পাহারা দিতো। কখনো বা বিকট শব্দের নানাপ্রকার বাদ্য বাজিয়ে বাঘকে ভয় দেখাতো। যুগ যুগ ধরে বাঘ তাড়ানোর এই বিষয়টি গ্রামীণ সমাজে মিশে যায়। নাচ-গান বাদ্য-বাজনায় বাঘ তাড়ানোর রীতিনীতি হয়ে উঠে এক নতুন সংস্কৃতি।
সুনামগঞ্জেই মেঘালয়ের পাদদেশে লৌকিক পীর আরফিন শাহের মাজারে বাঘ তাড়ানোকে কেন্দ্র করে ‘বাঘের শিন্নী’ নামে শিরনী দেয়ার রেওয়াজ শুরু হয়। বাঘের শিন্নীর মূল চালিকাশক্তি গ্রামের গৃহস্থদের আস্থাভাজন রাখালরা। তবে আজকের দিনে রক্তলোলুপ এই প্রাণীটি মানুষের মনোরঞ্জনের বস্তু হিসেবে ঠাই পেয়েছে চিড়িয়াখানায়। বাঘের অত্যাচার থেকে মানুষ আজ মুক্ত। নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বাঘকে সমাজ জীবনের পশুত্বের সাথে তুলনা করেছেন। নাটকের গল্পে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লেবাসধারী পশু এবং ৭১ পরবর্তী মানুষরূপী প্রেতাত্মাদের সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।
‘বাঘের শিন্নী’ নাটকে অভিনয় করেছেন, ফয়সাল খলিলুর রহমান, আলীরেজা হাসিব, মো. বুরহান উদ্দিন, শামসুল হুদা মোস্তফা, জিল্লুর রহমান সাহেল, আবুল হাসনাত, আদনান সামি নাহিয়ান, শিমুল হাসান, অপু খাইরুল, মেহেদী মো. ফারুকি, অসীম সরকার, প্রান্ত ধর, সুমনা দেব কেয়া, সাগর দেবনাথ, জাহিদ হাসান সাগর, তৈয়বুর রহমান, শাহরীন রহমান বিথী, জাওয়াতা আফনান রোজা, অনুসূয়াসহ নাটক বিভাগের প্রশিণার্থীবৃন্দ।
নাটকটি প্রসঙ্গে নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণ বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে গ্রামের রাখালরা দেশ ও সমাজকে রা করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধেও গ্রামের রাখালরাই শত্রæপরে বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চাষাভুষা বা দুই কড়ার রাখাল বলে তাদের আমরা সমাজের নি¤œস্তরে রেখে দিই। অথচ তাদের হাতেই বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতির রাকবচ। বাঘের শিন্নী নাটকে আমি বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভাটির বিলুপ্ত সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিষয়টিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
সুনামগঞ্জের হাসনরাজা মিলনায়তনে রঙ্গালয়ের ৪দিন ব্যাপি সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রথমদিনই বাঘের শিন্নী মঞ্চায়িত হয়েছে। মঞ্চায়নের পর উৎসব স্মারক নাট্যকার ভবতোষ রায় বর্মণের হাতে তুলে দেন রঙ্গালয়ের প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট শামছুল আবেদীন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ পাভেল চৌধুরী, সিলেট শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত, রঙ্গালয় সুনামগঞ্জের সভাপতি মোশাহিদ আলম মহিম, রঙ্গালয় সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দেওয়ান গিয়াস চৌধুরি।
প্রভাতবেলা/এমএ

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি