সিলেট | |
প্রকাশিত: 4:06 PM, March 8, 2020
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
‘নারীর সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে ১১০-তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও সংগঠনের ২৬-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।
০৮ মার্চ দুপুরে শহরের কোর্টরোডস্থ(মনু সেতুসংলগ্ন) কার্যালয় হতে এক মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় কার্যালয়ে এসে সমাপ্ত হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি দেলোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি শহীদ সাগ্নিক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও ধ্রæবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা। এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আম্বিয়া বেগম, মহিলা নেত্রী নাইমা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সুমি বেগম, বিরজা বেগম, জহুরা বেগম, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৪৫৩ এর সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, সহ-সভাপতি শাহজাহান আলী ও প্রচার সম্পাদক মাহমুদ মিয়া, চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হরিনারায়ন হাজরা, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কালেঙ্গা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ গিয়াস মিয়া, সাধারণ সম্পাদক খোকন মিয়া প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী মুক্তির লক্ষ্যে শোষিত-বঞ্চিত নির্যাতিত নারী-পুরুষ আপামর জনগণের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অনটন-সমস্যা-সংকটের জন্য দায়ী প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন, হত্যা, খুন, গুমের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ বক্তারা করে বলেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যা কান্ডের ঘটনা প্রচলিত বৈষ্যমমূলক সমাজ ব্যবস্থার অকার্যকরতার প্রকাশ। নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়, নারী উন্নয়ন নিয়ে নানা রকম গালভরা বুলি শুনালেও দেশের অধিকাংশ নারীরা, বিশেষত শ্রমজীবী নারীগণ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, মজুরি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের নেই কোন মজুরি কাঠামো, তেমনি নেই কর্মের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা। উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখলেও তাদের নেই অধিকার ও মর্যাদা। গার্মেন্টস, চা-বাগান, ফার্মাসিউটিক্যালস, নির্মাণ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি শিল্প সেক্টরে নিয়োজিত নারী শ্রমিকসহ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, অফিস-আদালতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, গৃহকর্মী, গ্রামের কৃষাণী তথা শ্রমজীবী নারীদেও হাড় ভাঙ্গা খাটুনি, রক্ত-ঘামঝরা পরিশ্রমে মুনাফার পাহাড় গড়ে দেশের অর্থনীতি চালু রাখলেও নির্মম শোষণের যাতাকলে পিষ্ট এ নারীরা পায় না ন্যায্য ও সমমজুরি। দেশের জনসংখার অর্ধেক নারীর জীবন-জীবিকার সমস্যার সাথে জড়িত। দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, তথা সামগ্রিক সংকট তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে চলমান রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করতে না পেরে, শহরের শ্রমিক ও শ্রমজীবী জনগণের কাজের ক্ষেত্রে সংকুচিত হয়ে পড়ায় বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের নারী সমাজ তথা শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সমস্যা-সংকট, শোষণ-লুন্ঠন, দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের কারণ হচ্ছে প্রচলিত নযা উপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। এর জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিকে উচ্ছেদ করা ছাড়া নারী মুক্তি অর্জিত হতে পারে না। এই সত্যকে আড়াল ও অস্বীকার করে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক-শোষক গোষ্ঠি ও এনজিওরা নারী পুরুষের মধ্যকার বিভক্তি বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজের দায়িত্ব নারী মুক্তির লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সরকার, রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সভা থেকে সরকারের সম্প্রতি বিদ্যুত ও পানির মূল্য বৃদ্ধি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয় দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের কাছে এই বর্ধিত মূল্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ’। সভা থেকে গ্যাস-বিদুত্যের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহারসহ নিত্যপণ্যের মূল্য কমানো, সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থা সমূহের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, সাম্রাজ্যবাদের দালাল নয়াউপনিবেশিক ভারতের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, বিনাবিচারে হত্যা-খুন-গুম বন্ধ, শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ন্যূনতম মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী সংশোধিত শ্রমআইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, সমকাজে সমমজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়।
প্রভাতবেলা/এমএ

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি