সিলেট | |
প্রকাশিত: 8:34 PM, October 4, 2026
সরকারকে অজনপ্রিয় করে তুলতে ভেতরের কোন মহল কলকাটি নাড়াচ্ছ কি না এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। একইভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের অতি উৎসাহি কোনমহল এসব তৎপরতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগান দিচ্ছে বলে মনে করছেন ত্যাগী নেতাকর্মী ।
অপার সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে স্রেফ ভাগ্য গুণে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া দলটি যেন খেই হারিয়ে ফেলছে। দেশের মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলনে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা।
ক্ষমতায় আরোহন করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ডিগবাজি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক দোহাই, গুম খুন প্রতিরোধ কমিশন বাতিল করে সরকার জনগণের আস্থা থেকে ছিটকে পড়েছে। অথচ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিয়ে সরকার জন আস্থা সুসংহত করতে পারতো। সরকার এখন বা পরবর্তীতে জনআকাঙ্খার এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করলেও
ক্রেডিট নিতে পারবে না। জনগণ ধরে নিবে বিরোধী দলের আন্দোলনের ফলে সরকার এসব বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়েছে।
সাত মাস বয়সী এই সরকার রাজনৈতিক এই ইস্যূগুলোর স্বচ্ছ কোন সুরাহা না করে উপরন্তু নিজেদের ক্ষতিই করছে। সচেতন মহল এমনটাই মনে করছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজ্ঞা দূরদর্শিতার প্রচন্ড সংকট এই সরকারে। অহেতুক ইস্যূ তৈরি করে, শূণ্যহাতে গুটিয়ে আসতে হচ্ছে একের পর এক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ( অব) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা, কয়েকঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার, হাতকড়া লাগিয়ে আদালতে নেয়া, রিমান্ডে নেয়া এগুলোতে সরকারের ফায়দা কি?
সরকারের ভাষ্যমতে বিমানবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ( অব) আখতারুজ্জামান অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে মেজর আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের মারধরও করেছেন। কিন্তু মারধরের ঘটনাস্থল সিসিটিভির আওতাভুক্ত এলাকা ছিল না। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঐ ঘটনা দেশ বিদেশের গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রচার হয়। পুরো ঘটনাই মানুষ অনুধাবন করতে পেরেছে।
প্রশ্ন হলো, সরকার কেন বিমানবন্দরের দু’ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলো? মেজর আখতারুজ্জামান কেন উত্তেজিত হলেন? সরকারি কর্মকর্তা কেন একজন যাত্রীর সাথে এভাবে কথা বলতে গেলেন। বোবার মত কথা না শোনে উনার চেম্বারে নিয়ে গিয়ে কি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারতেন না? যদি না পারেন তাহলে এই ব্যর্থতা ঐ কর্মকর্তার।
আরো বড় করে বল্লে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচরণ সভ্যতার কোন সংজ্ঞায় পড়েনা। এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। এখানে যাত্রীকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। এসব অস্বীকার করার দায় সরকার নিতে গেল কেন? এসব অনিয়ম অনাচার তো গত ৭ মাসের ঘটনা নয়।
মেজর আখতারুজ্জামান এর ভাষ্যমতে, তিনি প্রতিবাদ করেছেন, জনস্বার্থে কথা বলেছেন, প্রবাসীদের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। তার বক্তব্যে- তার ভূমিকার পক্ষে ভুক্তভোগী মহল। তারা মেজর আখতারুজ্জামান এর মুক্তি দাবী করছেন। রাজপথে মিছিল সমাবেশ করছেন।
আমরা ধরে নিলাম, মেজর আখতার ‘সৌজন্যতা’ প্রদর্শন করতে পারেননি। শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করেছেন। এর দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন? কোন ধরনের তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতার করবেন? হাতকড়া পরিয়ে আদালতে উঠাবেন? আবার রিমান্ডেও নিবেন? তো ফ্যাসিবাদের সাথে পার্থক্য কি থাকলো?
আখতারুজ্জামান বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি। জামায়াতের সক্রিয় একজন সমর্থক। এটাই তার পরিচয়।
রাজনীতির এই পরিচয় তাকে কারান্তরীন করেছে, বোদ্ধা মহল এমনটা মনে করছেন।
বিমানবন্দরে মেজর আখতারুজ্জামান এর ‘ শাউটিং’- কে সরকার কেন এত ভয় পেল? কেন এত গুরুত্ব দিল? এর পরিণাম কি সরকার বা বিএনপির জন্য সুখকর কিছু হবে? মনে হয় না।
দমন পীড়নে যদি সফলতা থাকতো তাহলে শেখ হাসিনাকে পালাতে হতোনা।
আখতারুজ্জামান একরোখা প্রকৃতির মানুষ। রিমান্ডে, কারানির্যাতনে তাকে কনভিন্স করা কঠিন। সরকার এটা করতে পারলে একটা সফলতা দেখা যাবে।
অন্যথায় জামায়াতের সহযোগী সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান সত্যিই জামায়াতের নেতা হয়ে উঠবেন। আখতারুজ্জামান এর মুক্তি নিয়ে জামায়াত দুর্বার আন্দোলন করবে। দেড় কোটি প্রবাসীকে জামায়াত তার রাজনীতির ঘনিষ্ট করে তুলবে। তো লাভ টা কার হবে।
বিষয়টি তো অন্যভাবে সমাধান করা যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা বিমান পরিবহন মন্ত্রী মেজর (অব) আখতারুজ্জামানকে ডেকে নিতে পারতেন। তার কাছে জানতে চাইতেন এ সমস্যা কি গত ৭ মাসের সৃস্টি? ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি এর প্রতিকার কি চেয়েছিলেন? মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচার হতো। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে বাহবা পেত সরকার, প্রশংসিত হতেন প্রধানমন্ত্রী।
কবীর আহমদ সোহেল
৪অক্টোবর ২০২৬

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি