বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র

প্রকাশিত: 1:35 AM, August 12, 2021

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক স্থাপনের বিরোধীতাকারীরা জুড়ীর উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক।♦ আঞ্চলিক অফিস,জুড়ী♦

 

৯ আগস্ট সোমবার দুপুরে জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ তুলেন ।

 

তিনি বলেন, আমাদের এমপি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লাঠিটিলা সরকারি বন ভূমিতে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের তৃতীয় ‘বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে ইতিমধ্যে জরিপ ও নকশা প্রনয়ন কাজ শেষ হয়েছে। অচিরেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে। সরকারি বনে কয়েকঘর ভিলেজার ছিল। এখন অবৈধভাবে কিছু দুস্কৃতিকারি বন উজাড় করে শত শত ঘর নির্মাণ করেছে। বনের ভূমি দখল করে বন উজাড়ের মাধ্যমে ফিসারী তৈরি করেছে দখলকারীরা।

 

এখানে সাফারি পার্ক হলে দখল উচ্ছেদ, বন সৃষ্টি, বন্য প্রাণির অভয়াশ্রম তৈরি হবে, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে ও ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। বন কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমনে জুড়ী উপজেলা হবে মুখরিত।

 

আরও পড়ুন  পথ হারিয়েছে বিএনপি: শাজাহান খান

বহুমুখী ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এ এলাকার মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নত হবে। কিন্তু সরকারের সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। বন দখলকারীদের অর্থায়নে একটি কুচক্রী মহল ভুল তথ্য পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

 

 

তিনি বলেন, দুই-তিনটি পত্রিকা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের নামে সংরক্ষিত বন ধ্বংসের আয়োজন এরকম কথা বলে ভুল তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ করেছে। মূলত চক্রটি একটি বিশেষ মহলের যোগসাজশে বন দখলকারীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। পক্ষান্তরে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প তথা জুড়ীর উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করছে। কেননা, ইতিমধ্যে লাঠিটিলা বনের অধিকাংশ বনই অবৈধ দখলে চলে গেছে।

 

 

দখলকারীরা বন উজাড় করে বাড়িঘর ও ফিসারী, গরুর খামার করে ব্যবসা করছে। যেখান থেকে ওই কুচক্রী মহল সুবিধাভোগী। সাফারি পার্ক হলে বন রক্ষা হবে, ইকো ভিলেজে সঠিক ভিলেজারদের পূনর্বাসন করা হবে। উচ্ছেদ করা হবে অবৈধ দখলকারদের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বন খেকোরা বড় অঙ্কের পূঁজি নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক’ প্রকল্প ব্যাহত করার অসৎ উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে।

 

মানুষের চিন্তাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। তাদের এ কর্মকান্ডে জুড়ীবাসী আশাহত, মর্মাহত। আমরা এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই স্বতন্ত্র তদন্তের মাধ্যমে গভীর ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

আরও পড়ুন  স্ত্রী ও সন্তানের পর না ফেরার দেশে মানিক

 

এ সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, জায়ফরনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাছুম রেজা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অটল কিষাণ সিংহ সিবেন, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

 

তাঁরা ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দাবি করে দ্রুত বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক স্হাপন করতে প্রধানমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করে বক্তব্য রাখেন।

 

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ চেয়ারম্যান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একটি পত্রিকার স্হানীয় প্রতিনিধি আমার বক্তব্য ভুল করে উপস্থাপন করেছে।আমি তার তীব্র নিন্দা ও আপনাদের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

 

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যারা বিরোধীতা করছে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন,যারা গুরুত্বপূর্ণ পদবীতে রয়েছেন তারাই দলের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করবেন।

আরো পড়ুন;

সৌদিতে মাইক্রো চাপায় জুড়ীর আব্দুল হকের মৃত্যু

সর্বশেষ সংবাদ