সানশাইন ক্লিনিক মালিকের ওপর কুমিল্লায় অ্যাসিড হামলা

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৩

সানশাইন ক্লিনিক মালিকের ওপর কুমিল্লায় অ্যাসিড হামলা

হোমনা প্রতিনিধি : কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এক ক্লিনিক মালিকের ওপর দুর্বৃত্তদের অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ক্লিনিক মালিক রাবেয়া আক্তার (৩৮) কে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে । তিনি ঢাকার উত্তরখানের মইনারটেক এলাকায় অবস্থিত ‘সানশাইন ক্লিনিক’-এর মালিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জুন) রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোমনা উপজেলার মুন্সিকান্দি গ্রামে একটি বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেশ কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে রাবেয়া আক্তারের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান তার ডান পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক দগ্ধ হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাবেয়া আক্তার অভিযোগ করেন, উত্তরখানের মইনারটেক এলাকার যুবলীগের স্থানীয় নেতা আল মনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার ক্লিনিকে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুবৃত্তদের
আংশিক টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় তার ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় এবং এসময় রোগীদের তথ্য ডাটা সংরক্ষিত একটি ল্যাপটপ নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। এই ল্যাপটপ থেকে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়। বিষয়টি থানায় জানালেও অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের স্থানীয়
সংসদ সদস্যের কাছেও অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার রাতে তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের পর শরীরে অ্যাসিড ঢেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। তিনি আরও জানান দুবৃত্তদের ভয়ে তিনি পালিয়ে বেড়িয়েও রক্ষা পাননি।
অন্যদিকে, মইনারটেক এলাকার কিছু বাসিন্দার অভিযোগ সানশাইন ক্লিনিকে প্রসব সেবার আড়ালে অবৈধ গর্ভপাত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মাদ্রাসা ও
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্লিনিকটি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এছাড়া কয়েকজন রোগীর পরিবার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ক্লিনিক মালিককে অভিযুক্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ