মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রদলের সভায় ছাত্রলীগের হামলা: অন্তত ১৫ জন আহত, ৫ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: 12:35 AM, August 10, 2020

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রদলের সভায় ছাত্রলীগের হামলা: অন্তত ১৫ জন আহত, ৫ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:  মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রদলের এক শান্তিপূর্ণ বৈঠকে ছাত্রলীগের হঠাৎ হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলেজ প্রাঙ্গণ। সংঘর্ষে ১২-১৫ জন ছাত্রদল কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদল নেতাদের মতে, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মিয়া-এর নেতৃত্বে ১০ আগস্ট সকাল ১১টায় একটি বৈঠক শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল—ছাত্রলীগের বেআইনি দখলদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ ছাত্রদের হয়রানির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অবস্থান নির্ধারণ।

দুপুর ১২:৩০টার দিকে ছাত্রলীগের অন্তত ২৫-৩০ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে সভাস্থলে হামলা চালায়। হামলায় আহতদের মধ্যে যারা চিহ্নিত হয়েছেন তাদের নাম:

রিয়াজ উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহেদী হাসান, ফয়সাল আহমেদ, রুমান ইসলাম তানিম, নিলয় চৌধুরী, সাকিব হোসেন, আশিকুর রহমান, নাঈম আহমেদ, তামিম হাসান, শরিফুল ইসলাম, এবং সালমান মিয়া।

তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  সিলেট প্রেসক্লাব নির্বাচন: ১১ পদে লড়ছেন ২৩ প্রার্থী

ছাত্রদল সভাপতি রুবেল মিয়া বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগ পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ সেটিও গ্রহণ করেনি।”

আহত ছাত্রদল কর্মী মাহেদী হাসান বলেন, “আমরা কোনো অপকর্ম করছিলাম না। কেবল ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলছিলাম। ছাত্রলীগ আমাদের উপর যেভাবে হামলা করেছে, তা অত্যন্ত বর্বর।”

মৌলভীবাজার মডেল থানার ডিউটি অফিসার বলেন, “এই বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে আমরা তদন্ত করে দেখছি।”

ছাত্রলীগের এক সদস্য পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রদলের সদস্যরা আমাদের সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা কথা বলছিল। তাই আমাদের কিছু কর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।”

এই ঘটনার পর পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ