সিলেট ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৮
বন্ধুর উপহার দেয়া ব্যাটিং গ্লাভস পরেই আশরাফুলের সেঞ্চুরী।আশরাফুল থামছেন না, থামানো যাচ্ছে না। আশরাফুলের কীর্তিময় খেলার ঝলক নিয়ে লিখেছেন মাকসুদা লিসা;
মোহাম্মদ আশরাফুল থামছেন না। থামানো যাচ্ছেনা তাকে। এজেনো মরণপণ লড়াই। কঠিন প্রতিজ্ঞা। সুদৃঢ সংকল্প। কিছু করতে হবে। নিজেকে তুলে ধরার এটাই তো সুযোগ। অভিজ্ঞতার ভান্ডার মেলে ধরার। যেভাবেই হোক ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে হবে। ফিরতে হবে স্ব-মহিমায়।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিন তিনটি সেঞ্চুরী করেছেন। তার দল কলাবাগান সুপার লিগ হতে ছিটকে পড়ে খেলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) রেলিগেশন লিগ। এখানেও আশরাফুল অভিন্ন। অসাধারণ। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরী হাকিয়েছেন। লিগের পঞ্চম সেঞ্চুরীর দেখা পেয়েছেন আজ। অন্যন্য আশরাফুল। অসাধারণ প্রতিভার ঝলক। লিস্ট এ লিগে এক মৌসুমে পাঁচ পাঁচটি শতরান। রেকর্ড তো বটেই। এমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর কবে, কে রেখেছেন !
আজ রোববার ১ এপ্রিল সাভারের বিকেএসপি’তে অনুষ্ঠিত রেলিগ্রেশন লিগে ব্রাদাস ইউনিয়নের বিপক্ষে ১৩৭ বলে ১০২ রানের ১০ বাউন্ডারীতে অনবদ্য এক কাব্যিক ইনিংস হাকিয়েছেন এই ব্যাটিং জিনিয়াস। গত ম্যাচে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র হয়ে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ছিল তার লিস্ট এ লিগের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১৩৭ বলে ৮ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় শেষ পর্যন্ত আশরাফুল অপরাজিত ছিলেন ১০৩ রানে। সেই আশরাফুল ব্রাদাসের বিপক্ষেও আজ রোবরাব অপরাজিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আশরাফুল ধন্যবাদ জানাতে পারেন কৌশরের বন্ধু মামুনুর রশীদ সুমনকে। সদ্য ভারত ট্যুর থেকে ফিরেছেন সুমন। সেখান থেকে আশরাফুলের জন্য উপহার এনেছেন ব্যাটিং গ্লাভস। যা আজ ভোরে বিকেএসপি যাবার আগে সুমনের বাড়ী থেকে নিয়ে গেছেন অ্যাশ। সুমনের ও যাবার কথা ছিল আশরাফুলের ম্যাচ দেখতে। কিন্তু তার ক্লাবের অনুশীলন থাকার বন্ধুকে সঙ্গ দিতে পারেননি। বন্ধু সুমনের দেয়া সেই এসএস কোম্পানীর ব্যাটিং গ্লাভস পরেই এবারের লিগের পঞ্চম সেঞ্চুরীটা হাকিয়েন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। সুমনও আবেগে আপ্লুত। তার দেয়া উপহার স্মরণীয় হয়ে থাকলো।
একের পর এক সেঞ্চুরী হাকিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে তার এই প্রস্ফুটিত ফুলেল বন্যায় ভাসানো রানের দিনগুলো আঁধারে ছেয়ে যায় দলের ব্যর্থতায়। আশরাফুলের ব্যাট হেসে উঠে। হাসির ঝিলিক শেষ পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারেনা। ম্লান হয়ে যায় তার দল কলাবাগানের পরাজয়ে। দিনের প্রথমভাগের নায়ককে দিন শেষে মাঠ ছাড়তে হয় ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে। কলাবাগান ২৫২ রান করেও ৬ উইকেটে ম্যাচ হেরেছে ব্রাদাস ইউনিয়নের কাছে।
মোহাম্মদ আশরাফুল সত্যিকারের প্রতিভাবান ক্রিকেটার। মেধাবী। ক্রিকেটের ব্যাকরণ তার খুব ভাল জানা। নিখুঁত টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের শুরু হতেই ব্যাট হাতে দিয়ে যাচ্ছেন নিজের প্রতিভার প্রমান। দীর্ঘ খেলোয়াড়ী জীবনে কম চড়াই উতরাই পার করতে হয়নি তাকে। সকল অমঙ্গল, কলঙ্ক ধুয়ে মুছে ফিরেছেন ক্রিকেটের সুশীল সমাজে। প্রতিভা কখনও হারিয়ে যায় না। হয়তো সময় ও পরিবেশ, পরিস্মৃতি প্রতিভার বিকাশ হতে দূরে সড়িয়ে রাখে। কিন্তু প্রতিভার বিকাশ প্রস্ফুটিত হওয়া থেকে থামানো যায় না তাদেরকে। যখন সুযোগ আসে অনুকুলে, প্রতিভাবানরা জানিয়ে যান তারা অন্যদের চেয়ে আলাদা। ভিন্ন তাদের চরিত্র। ভিন্ন ভাবে জানান দিয়ে যান প্রতিভা, মেধা, যোগ্যতার ভান্ডার এখনও পরিপূর্ণ। আশরাফুলের একের পর শতরানই সে প্রমান নিদর্শন করে।
মোহাম্মদ আশরাফুল ফিরেছেন ছন্দে। চেনা রূপে। চলতি মৌসুমে নিজের ব্যাটিং নিয়ে আলাদা ভাবে কাজ করেছেন। যথেষ্ট সময় দিয়েছেন অনুশীলনে। যার সুফল অ্যাশ পেয়েছেন। ব্যাট হাতে আলোর ঝলক দেখিয়েছেন। পাঁচ পাঁচটি শতরানের অনিন্দ্য , চোখ ধাঁধানো ইনিংস। সত্যি অসাধারণ রেকর্ড। আশরাফুল চলতি মৌসুমে তার ব্যাটিংয়ের উন্নতির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন আশিকুর রহমানের কাঁধে। আশিক একজন সফল কোচ। আশরাফুলকে নিয়ে কাজ করেছেন। নেটে আশরাফুলের ব্যাটিং ট্যাকনিকের ভুল-ক্রুটি শুধরে দিয়েছেন। জাতীয় অনূর্ধ্ব- ১৯ দলের সাবেক এই পেস বোলারের রয়েছে কোচিং ক্যারিয়ারে খ্যাতি। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে দায়িত্ব পালন করেছেন ওল্ডডিওএইচএস ও প্রাইম ব্যাংকের মত বড় দলের। এছাড়া জাতীয় নারী দলের সহকারী কোচ ছিলেন আশিক।
আশরাফুলের সাফল্যে সন্তুষ্ট আশিকুর রহমান। এই প্রতিবেদককে আশিক বলেন,’ আশরাফুলের নতুন পথ চলা আবার শুরু হয়েছে। সামনে আরো ভাল করবে অ্যাশ। পরিশ্রম করছে। সময় দিচ্ছে অনুশীলনে। কষ্ট করছে বলেই তার উইলো থেকে বড় রানের ইনিংস বেড় হরে আসছে’।
আশরাফুল ভক্তরা তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দিকে। চলতি বছরই তার মাথার উপর থেকে কেটে যাবে সকল মেঘ। এই মৌসুমেই ফিরবেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। (বিপিএল)। আসছে সেপ্টেম্বরে খেলার ছাড়পত্র মিলবে মোহাম্মদ আশরাফুলের। এই ব্যাটিং জিনিয়াসের প্রত্যাশাটা আরো একটু বেশী। এখনও স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলে ফেরার।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি