আ.লীগ-স্বতন্ত্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাগমারা

প্রকাশিত: 8:45 AM, January 1, 2024

আ.লীগ-স্বতন্ত্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাগমারা
প্রভাতবেলা ডেস্ক: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপির কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এতে এমপি এনামুল ও চার পুলিশসহ উভয়পক্ষের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার বিকালে গণিপুর ইউনিয়নের মাদারীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

রোববার বিকালে গণিপুর ইউনিয়নের মাদারীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ইটভাটার সামনে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এমপির নেতৃত্বে একটি মিছিল শুরু হয়ে মোহনগঞ্জ বাজারের তিনমাথার মোড়ে পথসভাস্থলের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মাদারীগঞ্জ বাজার গণিপুর ইউপি কার্যালয়ের সামনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক গণিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আযাদ ও সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলমের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন মিছিল লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় মিছিলকারীরাও পালটা আক্রমণ করে। এতে মাদারীগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় আধাঘণ্টা নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি। আতঙ্কে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যান। রাজশাহী-ভবানীগঞ্জ সড়কে সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে এমপি এনামুল হক ও চারজন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক গনিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, আবু বাক্কার সিদ্দিক, এনামুল হক, আজাদ, মাসুদ রানা, মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আতিক বাশার, সবুজ, ছাত্রলীগ নেতা নাইম, হৃদয়, ফায়সাল, তানভির, আব্দুর রশিদ, জাহাঙ্গীর আলম, আবু সাইদ, মেহের আলী, সোলাইমান আলী, উপজেলা মহিলা লীগ নেত্রী মরিয়ম বেগম, আবেদ বিবি, জাহানারা বেগম ও ছবেদা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে অস্ত্রসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার

 

থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মিছিলে হামলার ঘটনায় আফজাল হোসেন ও সুলতান মাহমুদসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

চান্দিনা (কুমিল্লা) : শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নে গল্লাই আবেদানূর কমপ্লেক্স এলাকায় নৌকার ৫ কর্মিকে কুপিয়ে জখম করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঈগল) কর্মী-সমর্থকরা। তাদের চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখান থেকে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতরা হলেন-গল্লাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আলম, একই গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে মো. বাশার, চেরাগ আলীর ছেলে হযরত আলী, কংগাই গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে মনির হোসেন ও গল্লাই গ্রামের আলী আক্কাসের ছেলে স্বপন। আহত কাউসার আলম বলেন, আমাদের এলাকায় একটি উঠান বৈঠক ছিল। আমরা গল্লাই কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি দোকানে বসে সবাই কথা বলছিলাম। হঠাৎ ঈগল প্রতীকের নেতাকর্মীরা এসে আমাদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

আরও পড়ুন  মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি নেতা জামশেদ আলম বাড়ী-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাংচুর

 

ওই হামলার এক ঘণ্টা পর একই ইউনিয়নে কালিয়ারচর বাজারে হামলায় নৌকার কর্মী সাবেক ইউপি সদস্য কোরবান আলী আহত হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পৌরসভার ছায়কোট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঈগল) গাড়িবহরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় বহরের ৩টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এরপর সাড়ে ৭টায় নবাবপুর ইউনিয়নের আটচাইল গ্রামে নৌকার নির্বাচনি গাড়িবহরে হামলা করা হয়। এ সময় নৌকার একটি মাইক্রোবাসের কয়েকটি গ্লাস ভেঙে ফেলে ঈগল সমর্থকরা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ