আতিয়া মহলে কমান্ডো অভিযানে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত

প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০১৭

জঙ্গিরা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে।অভিযান চলবে।

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহলে কমান্ডো অভিযানে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দুই জঙ্গির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভিতরে এখনো প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে, তাই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

তিনি বলেন, ভেতর থেকে জঙ্গিরা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে। জঙ্গিরা সুইসাইডাল ভেস্ট পরা ছিল।

এখনো অভিযান শেষ হয়নি বলে জানিয়ে ফখরুল আহসান বলেন, এখনই অভিযান শেষ করছি না। ভেতর থেকে লাশ বের করা হয়েছে। চার জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী।

পুরো ভবনটা যে অবস্থায় আছে সেটা বেশ ঝুকিপূর্ণ উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। যে চারজন এখানে ছিল, তারা বেশ ভালো প্রশিক্ষিত। তাদের খুঁজে বের করে মারা হয়েছে। এটা কিন্তু বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য একটা বড় সফলতা বলে মনে করি। আমাদের অভিযান এখনো চলমান আছে। আরো হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাব।

আরও পড়ুন  বন্যহাতির তাণ্ডবে দুই কিশোর নিহত

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখান থেকে যখন সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, তখন আমরা স্থানটা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব।

নিহতদের মধ্যে শীর্ষ কোনো জঙ্গি আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সেটা র‌্যাব বা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারবে। আমরা ভেতর থেকে ডেড বডি নিয়ে এসেছি। আস্তানা থেকে তারা কেউ বের হতে পারেনি। অপারেশন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা নিহত হয়েছে। তবে, তারা কখন নিহত হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে তার সময় বলা যাচ্ছে না।

বিস্ফোরণের পর আগুন লেগেছিল বলে মনে হয়েছে। ধোঁয়া দেখা গেছে। এটা আসলে কী ধরনের বিস্ফোরণ ছিল? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্ভবত সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জঙ্গিরা। তারই একটি বড় শব্দ হয়েছে।

আগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে গ্রেনেড চার্জ করা হয়েছে, ফায়ার করা হয়েছে। টিয়ার গ্যাস ফায়ার করেছি। এর ভেতরে বাসিন্দাদের ব্যবহৃত কাঁথা-বালিশসহ কাপড়চোপড় ছিল। সেজন্য ধোঁয়া দেখা যেতে পারে। আগুন লাগলে সেটা আরো বিপজ্জনক হতো। সেজন্য সঙ্গে-সঙ্গে আমরা নিভিয়ে ফেলেছি। পুরো ভবন আমরা মোটামুটি তল্লাশি করেছি। প্রয়োজন হলে আরো করব।

আরও পড়ুন  আগামী সপ্তাহে শাবিতে শুরু হবে করোনা পরীক্ষা

জঙ্গিদের শক্তিমত্তার ধারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফখরুল আহসান বলেন, প্রথম দিনের ঘটনা। বাড়িটির কলাপসিবল গেটের সামনে একটি বড় বালতির মধ্যে বিস্ফোরক ছিল। ওটা যখন ডেটোনেট করেছে তখন পুরো কলাপসিবল গেটটা উড়ে এসে পাশের বিল্ডিংয়ে পড়েছে। ওখানে আমাদের তিন চারজন সদস্য ছিলেন, তারা ছিটকে গেছেন। পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠেছে। এ রকম এক্সপ্লোসিভ তো ভেতরে আরো থাকতে পারে। অভিযানের কোনো ছবি আজ দিতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

এর আগে রবিবার সেনাবাহিনীর ব্রিফিংকালে দু’জন পুরুষ নিহতের খবর দেয়া হয়। এরপর সোমবার ব্রিফিংকালে একজন নারীসহ দু’জন নিহতের তথ্য জানানো হয়। এই চারজনের মধ্যে কে কখন নিহত হয়েছে, ব্রিফিংকালে তাদের মৃত্যুর দিনক্ষণ জানানো হয়নি।

পুলিশ ও র‌্যাব ঘিরে রাখার একদিন পর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান শুরুর পর ব্রিগেডিয়ার ফখরুলই প্রতিদিন নিয়মিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করে আসছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েই তিনি অভিযান প্রায় শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা যে দুঃসাহসী অভিযান পরিচালনা করেছে, তাতে আমরা সবাই গর্বিত। নিজেদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সুন্দর-সফলভাবে অভিযানটা চলেছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ