ছাতকে মসজিদ মার্কেট নির্মান নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশিত: 6:16 PM, February 2, 2020

ছাতকে মসজিদ মার্কেট নির্মান নিয়ে উত্তেজনা

 

প্রতিনিধি,ছাতক :

 

ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিলপার গ্রামবাসীর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট নির্মান কাজে একটি বিশেষ মহল কতৃক বাঁধাগ্রস্থ করার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকাল থেকে গ্রামবাসিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় মারাত্বক সংঘর্ষের ঘটনার আশষ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারী রোজ শুক্রবার বাদ জুম্মাহ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক সভা অনুষ্টিত হয়। উক্ত সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে মসজিদের উন্নয়নের জন্য জামাল খালের পরিত্যাক্ত তীরে তিনটি দোকান কোটা নির্মানের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রামবাসী চাঁদা করে দোকান কোটা নির্মানের কাজও শুরু করেন।

অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মৃত. হাজি আঞ্জব আলীর ছেলে আজম আলী, মৃত. আফতর আলীর ছেলে আকিক মিয়া তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মসজিদ মার্কেট নির্মানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন।

 

জানা যায়, জামাল খাল রাধানগর মৌজার জেলএল নং-৪০৬ খতিয়ান নং ০১, দাগ নং-২২১২ এতে সরকারি খাস জমি রয়েছে। এ খাল বিলপাড় গ্রামের চড়া থেকে তেলিহাওর গিয়ে পড়েছে। খালটি ধীরে ধীরে মরে যাওয়াতে এর তীর অনেকটা দখল করে নিয়েছেন স্থানীয়রা। নির্মানাধীন মসজিদ মার্কেটের বিপরীদ দিকে রয়েছে আজম আলীর ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেট। তার মার্কেটের সম্মুখ ভাগ তিনি নিজে দখল করতে না পারায় মসজিদ উন্নয়নের জন্য নির্মানাধীন মার্কেটে আজম আলী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন গ্রামবাসীর অভিযোগ ।

আরও পড়ুন  শিক্ষার আলোয় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে- এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান

 

এ বিষয়ে বিলপার গ্রামের আব্দুর নুর, সাহাব উদ্দিন ও আব্দুল খালিকসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আজম আলী একজন মদ্যপ প্রকৃতির লোক। তার বাড়ীতে দীর্ঘদিন যাবৎ মদ-গাজার আসর চলে আসছে। তিনি প্রভাবশালী বিদায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চায়না। গত রমজান মাসে গ্রামের মসজিদে দারুল ক্বেরাত চলা অবস্থায় মসজিদের সামনে ব্যতিক্রমী পোষাক পড়ে ঢুল বাজিয়ে আজম আলী গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

 

বিলপার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মৌলানা জুনায়েদ আহমদ, মুয়াজ্জিন সাইদুর রহমান, আব্দুল মতিন, নিজাম উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রইছসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে জুম্মার নামাজের পর এক সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে গ্রামবাসীর অর্থায়নে পরিত্যাক্ত জায়গায় মসজিদের উন্নয়নের জন্য দোকান কোটা নির্মান করা হচ্ছে।

 

আবু তাহের বলেন, দোকান কোটাগুলো আমার ব্যক্তি মালিকাধীন নয়। গ্রামবাসীর উদ্যোগে মসজিদের উন্যয়নের জন্য নির্মান করা হচ্ছে। সম্প্রতি আজম আলী গংরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ জায়গা সরকারী বটে তবে পরিত্যক্ত। সরকার চাইলে নিয়ে যাবেন। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্ছেদ যদি করতেই হয় মসজিদের উন্নয়নের জন্য নির্মানাধীন স্থাপনাসহ খালের তীরে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করতে হবে।

আরও পড়ুন  নবীগঞ্জে নৌকার মাঝি রাহেল, ধানের শীষে ছাবির

 

আজম আলী তার উপর আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, খালে পানি প্রবাহ চলমান রাখার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগটি প্রত্যাহার করার জন্য আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

ছাতক থানার এ এস আই উসমান গণী গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা স্বীকার করেছেন। ওসি মোস্তফা কামালের মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রভাতবেলা/এমএ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ