সিলেট ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৭
কবীর আহমদ সোহেল,জুড়ী থেকে ফিরে: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার বিস্তির্ণ জনপদ তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ। ভেঙ্গে পড়েছে তিন উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঈদ উদযাপন ও ঈদ পরবর্তী আনন্দ অবকাশের স্থলে জনপদ জুড়ে দুর্ভোগ আর হাহাকার। পযাপ্ত ত্রাণ নেই। নেই দুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ। এক নি:শব্দ দুযোগ চলছে গ্রামের পর গ্রামে। একদিকে অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল অন্যদিকে হাকালুকি হাওরে পানির ধারণ ক্ষমতা না থাকায় এ বন্যার সৃষ্টি বলে স্থানীয়রা বলছেন।
চান্দগ্রাম- কুলাউড়া সড়কের অন্তত ৩০টি স্থানে সড়কের উপর ৩ থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় পানির ঢল নামছে। সড়কের দু’ধারে যতদুর চোখ যায় কেবল জলমগ্ন দৃশ্য। আন্ত:উপজেলা এবং উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়কের অধিকাংশ তলিয়ে গেছে পানিতে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা জুড়ী চৌমোহনার( নাইট চৌমুনা)। দুদিকে ভাঙ্গনের গভীর খাদের অন্তত ৬/৭ ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে এ দৃশ্য।
প্রভাতবেলা’র নিজস্ব সংবাদদাতা রাজু আহমেদ জানান, জুড়ী নদী ও বিভিন্ন খালের ত্রিশটি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৫কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত জুড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রায় ৬৫টি গ্রামের ১৩হাজার পরিবারের দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ১৫মে, টন চাল ও ৫৮হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে আরও ৫০মে. টন চাল ও একলাখ বিশ হাজার টাকা। উপজেলার হাকালুকি আশ্রয় কেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়, শাহাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বশিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র।
এদিকে উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহহ প্রায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অর্ধশত মসজিদ পানিতে নিমজ্জিত। রোজা ও ঈদের ছুটি শেষে আগামী ১লা জুলাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং ৬জুলাই থেকে অর্ধবার্ষিক, প্রাকনির্বাচনী ও ১৫ জুলাই থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার বাড়ীঘর প্লাবিত হয়ে লোকজন দুর দুরান্তে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার কারনে বিদ্যালয়ে ছাত্র উপস্থিতি ও পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় বুড়িকিয়ারী নদীতে অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় এবং জুড়ী নদীর সংযোগস্থল কুশিয়ারা নদীর নিকটে ব্রিকফিল্ড তৈরি করার ফলে হাওরের পানি নিস্কাশনের পথ সংকোচিত হয়ে পড়েছে। যে কারনে বর্ষা মৌসুমের আগেই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে প্রতি বছর হাওরের বোরো ধান তলিয়ে যায়। সেই সাথে হাওর পারের জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখা এই তিন উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবদ্ধতা কবলে পড়েন।
এ অঞ্চলের মানুষ ত্রাণের বদলে বুড়িকিয়ারী বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে পানি নিস্কাশনের পথ সুগম করে দীর্ঘমেয়াদী পানিবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবি জানান।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি