সিলেট | |
প্রকাশিত: 2:44 PM, January 10, 2021
প্রভাতবেলা ডেস্ক:
রাজধানীর কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় গিয়ে বিকৃত যৌনাচারের শিকার ও নিহত স্কুলছাত্রীর ছবি ও তার পরিবারের পরিচয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের ঘটনাকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, তার বদলে বরং ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের নাম, ছবি, পরিচয় এবং তাদের এ ধরনের অপকর্মের পেছনের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসা প্রয়োজন।
ধর্ষিতার শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা জনগণের অবগতির জন্য প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, এসব ঘটনা সামাজিক অবক্ষয় তৈরি করছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে বন্ধুর বাসায় বিকৃত যৌনাচার ও হত্যার শিকার হন মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও লেভেল’ওই ছাত্রী। তার বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহান ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে অনেক গণমাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রীর নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবি প্রকাশ হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এ নিয়ে সমারেঅচনা আছে।
কিন্তু এভাবে ধর্ষিতার ছবি ছাপানো আইনসম্মত নয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ (১) ধারায় সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধা-নিষেধ অংশে বলা আছে, ‘এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হয়েছে এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোনও সংবাদপত্রে বা অন্য কোনও সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাবে, যাতে ওই নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছেন। বারবার এ ধরনের ঘটনার পরিত্রাণ চেয়েও সমাধানের পথ পাওয়া যায়নি। বরং তা আগের মতোই রয়ে গেছে।
ড. তানিয়া হক বলেন, ‘আমরা বহুবার সভা-সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠকে বলেছি, আলাপচারিতায় বলেছি, রিসার্চে বলেছি, সেখালিখির সময়ও লিখেছি। এ বিষয়ে প্রচুর লেখা এসেছে। এত কিছুর পরেও যখন ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি প্রকাশ করা হয়, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আর কী বলার থাকে!’
কলাবাগানের ঘটনায় বিকৃত যৌনাচারের শিকার নারীর ছবি প্রকাশের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমে মেয়েটির প্রকৃত নাম ও ছবি প্রকাশ করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এসব প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজের কোন দিকটা সামনে আনতে চাইছে, আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’
বরং যৌননির্যাতন এবং এ-সংক্রান্ত ঘটনার সামাজিক অনুঘটক, অবক্ষয়, জড়িত অভিযুক্তরা এসব ঘটনা পর্যন্ত কীভাবে আসছে তার ইতিহাস দেখা প্রয়োজন গণমাধ্যমের। বলেন ড. তানিয়া হক।
উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ‘এ ছেলেটা আমাদের সমাজের, মেয়েটাও সমাজের। আমি দেখলাম ছেলেটার (কলাবাগানের ঘটনার অভিযুক্ত দীহান) বাবা-মা অবস্থাসম্পন্ন। ভদ্রঘরেরই হওয়া উচিত। একটা ছেলেসন্তান যখন এ ধরনের কাজ করে তখন তারা বাবা-মা খুব খারাপ মানুষ, এটা আমরা বলতে পারি না। তবে ছেলে-মেয়েকে মানুষ করার জন্য বাবা-মায়ের দায়িত্বটা অনেক বড় একটা জায়গা। গণমাধ্যম কোনো ঘটনায় মেয়ের বাবা-মায়ের কাছে যান। আর কত? এটা তো থামানো যাচ্ছে না। আমাদের উচিত ছেলেটার আপাদমন্তক উন্মুক্ত করা।’
‘গণমাধ্যমের আর একটি বড় দায়িত্ব- এই ছেলেগুলো, যারা রেপ করে যাচ্ছে, তাদের ওপর স্টাডি করা। তারা কোন জায়গাটায় থেকে এ ধরনের ঘটনা শিখছে। একটা ছেলে কত দিন ধরে এ পর্যায়ে আসছে, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত প্রতিটা ছেলের হিস্ট্রি বের করা দরকার। তাহলে আমরা মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারব।’
ধর্ষণ-যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ড. তানিয়া হক। তিনি বলেন, ‘সব ছেলেমেয়েকে যৌনশিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। এটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো ঘরেও প্রয়োজন। সাধারণত বাবা-মা এটা নিয়ে কথা বলছে লজ্জা পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তার সন্তানকে সেক্স এডুকেশন শেখাচ্ছে। কিন্তু একজন দরিদ্র মানুষ, যারা বস্তিতে বসবাস করে, তারা তার বাচ্চাকে কীভাবে শিখাবে? সে নিজেই তো জানে না। সুতরাং সেক্স এডুকেশনটা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা-সব স্থানে দরকার।’
পৃথিবীর সব দেশে সমান হারে ধর্ষণ হচ্ছে না। আমেরিকা উন্নত দেশ হলেও সেখানে ধর্ষণের পরিমাণ ও হার বেশি। আবার বহু দেশে ধর্ষণের হার কম। যেসব দেশে ধর্ষণের পরিমাণ কম, তারা কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তা আমলে নেয়া দরকার বলে মনে করেন ড. তানিয়া। বলেন, ‘ঢালাওভাবে কখনোই কথা বলা উচিত না। সবাই তো এক রকম না।’
কলাবাগানে বিকৃত যৌনাচারের শিকার হওয়া মেয়েটির ছবি প্রকাশের বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী এ্যারোমা দত্ত। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘যাকে মেরে ফেলেছে, তার ছবি প্রকাশ করা ঠিক না, এটা অনৈতিক। কিন্তু যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের নাম এবং ছবি আগে দিতে হবে। অনেক সময় তাদের ছবি, নাম দেওয়া হয় না গণমাধ্যমে। আমরা বারবারই বলছি, যে বা যারা ধর্ষিত হয়, তার ছবি কখনোই দেওয়া যাবে না। এমনকি নামটাও না।’
এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘যারা এটা করেছে, তাদের নাম, ছবি বড় করে লাগান। টেলিভিশনে দেখান। তাহলে সমাজের সবাই সচেতন হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেতন হবে।’

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি