পাইকারি পণ্যে করোনার ধাক্কা

প্রকাশিত: 1:47 PM, April 4, 2020

পাইকারি পণ্যে করোনার ধাক্কা

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক: 

করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর মিছিলে পুরো বিশ্ব, থমকে আছে দেশ। চলছে সরকারি সাধারণ ছুটি। তবে নিত্যপণ্য এ আওতার বাইরে থাকলেও পাইকারি পণ্যে পড়েছে করোনার প্রভাব। আগে সদরঘাট, বাদামতলী ও শ্যামবাজার তীব্র যানজট ও লোকারণ্য থাকলেও এখন সেখানে মানুষের আনাগোনা নেই।

 

বাদামতলী ঘাটে ফলের ব্যবসা করেন রহিম শেখ। নিজ জেলা বরিশাল। ঢাকায় আসা যাওয়া থেকে ব্যবসার শুরু। তিনদশক ধরে এখানে ব্যবসা করলেও এমন ফাঁকা ও মানবহীন চিত্র দেখেননি। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বায়তুল আমান মসজিদের সামনে তিনি জানালেন, মানুষ নেই। ফুল বিক্রি কমেছে। বড় বড় দোকানীরা ফল কিনলেও আগের চেয়ে বিক্রি কমেছে এক-তৃতীয়াংশ। আগে লাখ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন কয়েক হাজার টাকার বিক্রি হয়। দোকান ভাড়া ও অন্যান্য খরচেই সেটা চলে যায়।

 

সরেজমিনে সদরঘাটের বাদামতলী, শ্যামবাজার ও বাবুবাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে দিনভর যানজট ও মানুষের ভিড় থাকলেও এখন নেই। রিক্সা ও গাড়ির ভিড়ে পায়ে হাঁটা যেখানে কঠিন ছিল, এখন সেই জায়গাগুলো ফাঁকা। পণ্যের কেনাবেচা কমে যাওয়ায় এখানকার নিম্ন আয়ের মানুষগুলোও পড়েছে মসীবতে। কাজ নেই, তাই কোনো আয়ও নেই। পেটে খাবারের ক্ষুধা ও কাজের ইচ্ছা থাকলেও অবসরে সময় কাটছে তাদের।

আরও পড়ুন  আবারও পেঁয়াজের সেঞ্চুরি !

 

বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষা শ্যামবাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি বাজার। রাজধানীবাসী দৈনন্দিন চাহিদার বড় অংশই মেটায় এই বাজার। বেলা ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, শ্যামবাজারে পেঁয়াজ ও রসুনের দোকানে মানুষের ভিড় নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা পণ্য কিনে নিচ্ছে। বেশির ভাগ দোকানদারকেই অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, পণ্য বিক্রি নেই বললেই চলে। পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কম হলেও ক্রেতা নেই। হাতে গোনা কিছু ব্যবসায়ী আসছেন, যারা নিজের দোকানে পণ্য বিক্রির জন্য কিনছেন।

বাবুবাজার ব্রিজের পূর্বপাশে কয়েকটি মার্কেটে চলছে ওষুধ বিক্রি। মার্কেটগুলো সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, করোনার কারণে মানুষের আনাগোনা কম। পাইকারি দোকানগুলোতে সবসময় ভিড় লেগে থাকতো। কিন্তু এখন সেটা নেই।

প্রভাতবেলা/এমএ

সর্বশেষ সংবাদ