ফেঞ্চুগঞ্জে ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা

প্রকাশিত: 6:03 PM, July 19, 2017

এমরান আহমেদ , ফেঞ্চুগঞ্জ : ফেঞ্চুগঞ্জ বন্যার্ত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে চলছে সমন্বয়হীনতা। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের ত্রাণ বিতরণে যোগাযোগ সুবিধাকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

এতে ঘুরেফিরে একই এলাকার দুর্গত লোকজন উপকৃত হচ্ছে। ফলে ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ননের অনেক গ্রামের পানিবন্দী মানুষজন অতিদরিদ্র হওয়া স্বত্ত্বেও একবারও ত্রাণ পাচ্ছে না।
অথচ সমন্বয়ের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নিলে দুর্গত সকলেই কিছু না কিছু সহায়তা পেতো। হাহাকারও কিছুটা লাঘব হতো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্যার শুরু থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব কয়েকটি ইউনিয়নের বন্যায় প্লাবিত হতে থাকে। অব্যাহত ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে এ ৫টি ইউনিয়নের অনেক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পরে ফেঞ্চুগঞ্জ সদর,ঘিলাছড়া,মানিকোনা সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সরকারী -বেসরকারি ত্রান বিতরন করা হয়। ক্রমশ বন্যার অবনতিতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এখনও। এসব দুর্গত মানুষের মাঝে প্রশাসন সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও সংগঠন দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে এগিয়ে আসে। কিন্তু এসব ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সমন্বয় না থাকায় সবাই প্রায় একই এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছেন।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন

এতে বিশেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা অঞ্চলের প্রকৃত অনেক দু:স্থ পরিবার ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার এ-ও দেখা গেছে, ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ভোটের রাজনীতিও প্রাধান্য পাচ্ছে। যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরকেই কেবল দেয়া হচ্ছে ত্রান সহায়তা-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের।

অনুসন্ধানে জানা যায় ৪নং উত্তর কুশিয়ারার দনারাম,চানপুর,ইলাশপুর,পুর্ব-ইলাশপুর,খিলপাড়া,দিন পুর,আটঘর,উত্তর পাড়া,পুর্ব পাড়া,ডন্ডি পাড়া, মহিদপুর,ফকির পাড়া,পাঠান চক সহ অনেক এলাকার বাসিন্দারা সম্বনয়ের অভাবে ত্রান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেসরকারি উদ্যোগে লন্ডন প্রবাসী বারিষ্টার নজরুল ইসলাম খছরু,লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হাই,ইউকে ট্রাষ্ট,রেডক্রিসেন্ট,সরকারী উদ্যোগে মুষ্টিমেয় ত্রান বিতরনে ছাড়া তেমন কোন চিত্র চোখে পড়েনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কটাল পুর গ্রামের অনেক বাসিন্দারা বলেন নৌকা না থাকায় ত্রাণ আনার জন্য যেতে পারি না। পানির কারণে বাড়িতেই বন্দী থাকায় একবারও আমাদের ভাগ্যে ত্রাণ জুটেনি ত্রাণ।

৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে বাসিন্দারা ক্ষোভের সুরে বলেন , এই ইউনিয়নে ভেতরের এমন অনেক দুর্গত পরিবার রয়েছে যারা একবারও সরকারী কিংবা বেসরকারী ত্রাণ পায়নি। তারা বলেন রাস্তার পাশের এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, ঘিলাছড়া, মানিকোনা অঞ্চলের অনেক এলাকা রয়েছেন যারা ২-৩ বার করে চাল, ডাল, আলুসহ বিভিন্ন সাহায্য পেয়েছে। অনেকে নৌকা নিয়ে ত্রাণ দিতে আসেন, তবে ঘুরে ফিরে একই লোক ত্রাণ পাচ্ছে।

আরও পড়ুন  গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৫ ও আক্রান্ত ৬৮৮

সাবেক জনপ্রতিনিধি ফজলুর রহমান জানান, অনেকেই ত্রাণ দিতে যোগাযোগের সুবিধাজনক স্থানকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তারা রাস্তার পাশের লোকজনকে প্যাকেটজাত ত্রাণ দিয়ে কিছু ছবি ও সেলফি তুলেই ফিরে যান। বেশিরভাগ বেসরকারি ত্রাণ একই এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছে।

বন্যার পানি কমতে শুরু করছে সাথে সাথে রোগ বালাই ছড়াচ্ছে ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের অনেক এলাকাতে প্রকটভাবে।
উত্তর কুশিয়ারা অঞ্চলের অনেক বাসিন্দা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি ফজলুর রহমান মনে করেন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক ত্রাণ বিতরণকারীরা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রাখছেন না। সমন্বয়ের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নিলে বেশি মানুষ উপকৃত হতো,তার সাথে ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের মানুষ সমান ভাবে ত্রান পেতো।

তারা বলছেন,  স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ দেশী -বিদেশী সকল দাতাদের আহবান জানান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য এলাকার মত এই ইউনিয়নে মেডিক্যাল ক্যাম্প,ত্রান বিতরন সহ বিভিন্ন বিষয় দৃষ্টি রাখলে ফেঞ্চুগঞ্জ ৪নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের মানুষ ও সমান সুযোগ পাবে।

সর্বশেষ সংবাদ