মহেশখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীর ওপর হামলাকারী জাহেদুল গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: 3:47 PM, March 2, 2017

সংবাদদাতা,মহেশখালি: মহেশখালিতে মাদ্রাসাছাত্রীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি জাহেদুল ইসলামকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। গ্রেপ্তারকৃত জাহেদুল ইসলাম হরিয়ারছড়ার লোকমান হাকিমের পুত্র।

 

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ জাহেদুল শনিবার বিকেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্রীর হাতে, মুখ ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে এ ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মহেশখালী কালারমারছড়া ইউনিয়নের ফকিরজুম অফিসপাড়ার আহমদ হোসনের মেয়ে ও আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী বর্তমানে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

 

এ যেন আরেক খাদিজা!

এ যেন আরেক খাদিজা, আরেক নরপশু বদরুল! সিলেটের সেই রোমহর্ষক ঘটনার মতোই আরেকটি ঘটনা ঘটালো কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে। সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে যেভাবে প্রকাশ্য এলোপাতাড়ি কুপিয়েছিল বদরুল নামের এক নরপশু। তেমনই শুধুমাত্র প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বাড়িতে ঢুকে নাহিদা আক্তার নামের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে এলোপাতাড়ি কোপায় নরপশু জাহেদুল ইসলাম।

 

আরও পড়ুন  মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট হন- প্রধানমন্ত্রী

২৫ ফেব্রুয়ারি মহেশখালীর কালারমারছড়ায় ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মাদ্রাসা ছাত্রী নাহিদা আকতারকে (১৫) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও গত সে অচেতন অবস্থায় রয়েছে।

 

অনেকেই মনে করছেন, সিলেটের খাদিজার ঘটনার চাইতেও নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক মহেশখালীর এই নাহিদা আকতারের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নাহিদা আকতারকে মুখে, মাথায়, হাতে, বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়েছে।

 

মহেশখালীর একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালারমারছড়া আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ও ফকিরজুম পাড়ার মোহাম্মদ হোছাইনের মেয়ে নাহিদা আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল হোয়ানক ইউনিয়নের পুর্ব হরিয়ারছড়া এলাকার লোকমান হাকিমের ছেলে ‘বখাটে’ জাহেদুল ইসলাম। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার বিকালে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং নাহিদাকে ধারালো কিরিচ দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় সে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র মতে, কিশোরী নাহিদার শরীরে ১০ থেকে ১২টি কিরিচের কোপ লেগেছে। মুখে ও কপালে দুইটি গভীর কোপ লাগে।

 

সূত্র জানান, রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু নাহিদাকে প্রথমে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসাপাতালে পাঠিয়ে দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সে বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আরও পড়ুন  করোনার উপসর্গ নিয়ে বড়লেখার এক ব্যক্তির মৃত্যু

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুলতান আহামদ সিরাজী প্রভাতবেলা’কে জানান, নাহিদার মুখের ও কপালের কোপ অত্যন্ত মারাত্মক। অন্য আঘাতগুলোও কম নয়। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

এদিকে মহেশখালীর এই ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে মহেশখালীজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরে ওই আলোচনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাহিদা আকতার ও নির্যাতনকারী জাহেদুল ইসলামের ছবি তুলে ধরে নরপশু জাহেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে।

 

সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মহেশখালীর এই ঘটনা সিলেটের ঘটনার চাইতে কোনো অংশেই কম নয়। বরং মহেশখালীর ঘটনাটি আরো বেশি মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর।

 

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ প্রভাতবেলা’কে জানান, ঘটনার শিকার মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে জাহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইতোমধ্যেই জাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ