রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষনা মোয়াজ্জেমের

প্রকাশিত: 1:25 AM, March 23, 2017

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:  দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এবার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের ১০ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণসভার আয়োজন করে কে এম ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ।

বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভা হয়ে জাতীয় পার্টিতে আসা শাহ মোয়াজ্জেম বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন।

সভায় শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমার বয়স হয়েছে, এখন ৮০ বছর চলছে। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। আমাকেও হয়তো মরহুম ওবায়দুর রহমানের কাছেই চলে যেতে হবে।

এখানে অনেকেই উপস্থিত আছেন। আমি আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি বিদায় নিয়ে যাচ্ছি।

এ সময় সভামঞ্চে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় আল্লামা সরোয়ার সাঈদী

তবে অনুষ্ঠানে শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর উপস্থিত নেতাদের কাউকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, দেশের বহু আন্দোলন, সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী এই নেতা ১৯৫২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথম কারাবরণ করেন।

সেখান থেকেই রাজনীতিতে আগমন ১৯৩৯ সালের ১০ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জ জেলার দোগাছি গ্রামে জন্ম নেয়া শাহ মোয়াজ্জেমের।

১৯৫২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শাসনামলে কারাবরণ করেছেন তিনি। বন্ধুমহলে পরিচিত কারাগারের ‘পাখি’ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন জীবনের প্রায় ২০ বছর জেলে কাটিয়েছেন।

১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের সময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলন ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ভারতীয় পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অগ্নিঝরা ভাষণ দেন তিনি।

হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম চিফ হুইপ হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নানা স্থানে ছুটে যান।

আরও পড়ুন  এই সেই হারুন!

১৯৭০ ও ’৭৩ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আবারো হুইপ হন তিনি। আশির দশকে এ নেতা জাতীয় পার্টির মহাসচিব, মন্ত্রী, সংসদ উপনেতা ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বন পালন করেন।

সর্বশেষ সংবাদ