করোনার টিকা গ্রাম পর্যায়েও নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

করোনার টিকা গ্রাম পর্যায়েও নিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

করোনার টিকা গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস এন্ড ক্যান্সার রিসার্চ এর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার আগ্রহের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, টিকা নেওয়ার ব্যাপারে অনেকের একটু দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছিল, তবে সাহসী ভূমিকা রেখেছে আমাদের কুমুদিনী হাসপাতালের নার্স। এখন আর আমাদের কোন সমস্যা নাই, এখন সবাই খুব আগ্রহ দেখাচ্ছে, উৎসাহে চলে আসছে টিকা নিতে। আমরা তিন কোটি ডোজ টিকা কিনে রেখেছি। তাছাড়া ভারত ২০ লাখ ডোজ দিয়েছে, এছাড়া অন্যান্য দেশও দিতে চাচ্ছে আমরা সবগুলো নেব, কারণ আমরা চাচ্ছি একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত টিকা দিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আমি যখন বেঁচে যাই এতগুলো শোক সহ্য করা খুবই কঠিন, তারপরে শুধু এটুকই চিন্তা করেছি যে জাতির জন্য সারাটা জীবন আমার বাবা সংগ্রাম করেছেন, জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছেন, নিজের জীবনের কোনও চাওয়া পাওয়া ছিল না, এমনকি আমার মা‘ও না, সম্পূর্ণভাবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিল দেশের মানুষের জন্য। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা এবং তাদের জীবনটা উন্নত করার এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। সেজন্য যতোটুকু যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নার্সদের শুধু ডিপ্লোমা নার্সিং ছিল, গ্রাজুয়েশন ছিলোনা। ‘৭৫ সালের পর ২১ বছর যারা সরকার পরিচালনা করেছিল একেতো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল। তারপর ক্ষমতাটা তাদের কাছে ছিল একটা ভোগের বস্তু, নিজের ভাগ্য গড়ার বস্তু, দেশের মানুষের কল্যাণ করার কথা তারা কখনও চিন্তা করে নাই। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুর্ভাগ্যের। আমরা সরকারে আসার পর থেকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাই।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় আসে তাদের একটা কাজই ছিল আমরা যা কিছু করেছি সবগুলি বাতিল করে দেওয়া বা সেগুলো স্থগিত রাখা। ঠিক সেরকম একটা সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল। যা হোক আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো আবার হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি জেলায় সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, মেডিকেল কলেজ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি, উন্নত মানের হাসপাতাল করে দিচ্ছি। ডাক্তার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। করোনাভাইরাস যখন এসেছে তা মোকাবিলা করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সাত দিনের মধ্যে ২ হাজার ডাক্তার ৬ হাজার নার্স টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও নিয়োগের পদক্ষেপ নিয়েছি। যেন আমাদের দেশের মানুষ অন্তত এই চিকিৎসাটা পায়, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার পরেও সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাটা মেনে চলতে হবে, মাস্ক পরে থাকতে হবে, হাত ধুতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। যারা ভ্যাকসিন নিচ্ছি সাথে সাথে যেন স্বাস্থ্যসুরক্ষাটা মেনে চলি। তাহলে আমরা আশা করি আমাদের দেশ থেকে এই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি চলে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ