জুড়ীতে ২রাতে ১০ চুরি|| চোরের বদলে মালিককে হেনস্তা করলেন ওসি

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২২

জুড়ীতে ২রাতে ১০ চুরি|| চোরের বদলে মালিককে হেনস্তা করলেন ওসি

জুড়ীতে ২রাতে ১০ চুরি|| চোরের বদলে মালিককে হেনস্তা করলেন ওসি। এম রাজু আহমেদ, জুড়ী♦

জুড়ীতে দুই রাতে ১০ চুরি, ব্যবসায়ীকে আটকের চেষ্টা ওসির, জনতার বাঁধা। মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে দুই রাতে ১০ দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের নয়া বাজার, বড়ধামাই, পশ্চিম বড়ধামাই এলাকার ৫ টি দোকানে চুরি হয়েছে।

এ চুরির ঘটনায় খোদ ব্যবসায়ীকে আটকের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের নয়া বাজার, বড়ধামাই, পশ্চিম বড়ধামাই এলাকার ৫ টি দোকানে চুরি হয়েছে। দোকান গুলো হলো হীরা ভেরাইটিজ স্টোর, আলিম ট্রেডার্স, ফখরুল ভেরাইটিজ স্টোর, ইনসাফ ভেরাইটিস স্টোর, কয়েস স্টোরসহ শাপলা কমিউনিটি সেন্টারে চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী হীরা দাস বলেন, আমার দোকানে চুরি হয়েছে। ওসি স্যার উল্টো আমি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য এসব করছি অভিযোগ এনে আমাকে আটক করে গাড়িতে তুলেন। নয়াবাজারের শাপলা কমিউনিটি সেন্টারের মালিক কাজল আহমদ বলেন, আমাদের বাজারে চুরি হয়েছে আমরা সবাই মর্মাহত । ওসি সাহেব তদন্তে এসে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হীরা দাসকে ষড়যন্ত্রকারী উল্লেখ করে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ আমাদের সকলের হস্তক্ষেপে তিনি হীরা দাসকে ছেড়ে দেন। এছাড়া ওসি সাহেব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের খারাপ ব্যবহার করে অনেককে গালিগালাজও করেছেন, যা জুড়ী উপজেলার পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর মোটেও উচিৎ হয়নি। এ ঘটনার আগে মঙ্গলবার ভোর রাতের দিকে উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের ৫ টি দোকানসহ মসজিদের একটি দানবাক্সও চুরি হয়।দোকানগুলো হলো মেসার্স বিসমিল্লাহ ভেরাইটিজ স্টোর, লাভলী স্টোর,শামীম ট্রাভেলস, সুভাষ মিষ্টি ঘর, এমএ নূর রড সিমেন্টের দোকান ও ভবানীগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের দানবক্স। এম এ নূর রড সিমেন্টের দোকানের স্বত্বাধিকারী ও ভবানীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক এম এ মহসিন মুহিন জানান, রাতে দোকানের তালা ভেঙ্গে চুর ক্যাশের টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। টাকা ছাড়া আর কোনো মালামাল নেয়নি। এ ধরনের চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন।

স্থানীয় পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন বলেন, চুরির বিষয়টিকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে ওসি দায় এড়াতে পারেন না। ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও জুড়ী শহরে চুরির ঘটনায় এখনো পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর আজকে চুরির ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখার পরও তিনি এটাকে ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র দাবি করে তাঁদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে আমার হস্তক্ষেপে তিনি ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেন এবং দু’জন কর্মচারী ও চৌকিদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান ।

ওসি সাহেব সিভিল ড্রেসে চুরির ঘটনা তদন্তে এসে খোদ ব্যবসায়ীদেরকে আটক করার চেষ্টা করলে জনতার রুষানলে পড়েন। আমি না থাকলে অপ্রীতিকর কিছু একটা ঘটে যেতো। জুড়ী থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, চুরির ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আসলে এখানে তেমন কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তবে তিনি তিন-চারটি দোকানের তালা ভাঙ্গার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে আনার  কারণে পুলিশ জনতার রোষানলে এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, একজন ব্যবসায়ীর কথাবার্তায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় আনতে চাইলে ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানায়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় তদন্তে সহযোগিতার কথা বললে তাঁকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ব্যাবসায়ীকে নয়, জিজ্ঞাসার জন্য দোকান কর্মচারী ও চৌকিদারকে থানায় আনা হয়েছে‌। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ জাকারিয়া বলেন, জুড়ীতে বেশ কিছু চুরির ঘটনার বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তবে নয়াবাজারের চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীকে ওসি কর্তৃক উঠিয়ে আনার বিষয়টি খোঁজ নেবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ সংবাদ