তাহিরপুরে বিজিবি-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি বর্ষণ, আহত-১৫

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

তাহিরপুরে বিজিবি-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি বর্ষণ, আহত-১৫

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সংঘর্ষে এক শিশু, বিজিবি’র দুই সদস্য, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও স্থানীয়সহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে বলেও জানা যায়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৭ টার দিকে সীমান্তের শাহিদাবাদ বর্ডার হাট সংলগ্ন (বরই বাগান) এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মূলত ঘটনাটির সূত্রপাত হয় আহত শিশু বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়ন এর মুকসেদ পুর (উত্তর) গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে সুমন (৮) কে নিয়ে। এদিকে আহত অন্যান্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

এ ঘটনায় তাহিরপুর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন এর উপ পরিচালক মাহবুব আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

যদিও আহত শিশু সুমন জ্ঞান হারায় কিন্তু তৎক্ষনিক বিজিবির আঘাতে সে মারা গেছে বলে গুজব ছড়ালে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিল করতে থাকেন এবং বেশ কিছু স্থানীয় লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই বিজিবির গোয়েন্দা কর্মকর্তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় টহলরত সিপাহি আরজু এগিয়ে আসলে উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে টহলরত বিজিবির বাকি সদস্যরাও এগিয়ে আসে। শুরু হয় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া । একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার আ. রাজ্জাক এসএমজি’র ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং ক্ষিপ্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিজিবি জানায়, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে শাহিদাবাদ বর্ডার হাট সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক কুড়ানো কয়লা নিয়ে আসার পথে বিজিবির সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা ল্যান্স নায়েক নাঈম ইসলাম তাদের পথরোধ করে। এ সময় কুড়ানো কয়লা ফেলে সকলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তাদের সাথে থাকা শিশুটিও দৌড় দিলে হোঁচট খেয়ে হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে মোকাম সংলগ্ন একটি দোকান ঘরে নিয়ে পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। এসময় বিজিবির আঘাতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় গোজব ছড়ালে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে বিজিবির উপর হামলা চালায়।

এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিজিবি’র গোয়েন্দা কর্মকর্তা শিশুটিকে বেদম মারধর করলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

অপরদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে লাউড়েরগড় বাজারের একটি ফার্মেসিতে এবং পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠান। জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য বলেন, শিশুটির শরীরে গুরুতর কোন আঘাত দেখা যায়নি, রক্তাক্তও হয়নি।

সংঘর্ষের পর সরেজেমিনে গেলে এ প্রতিবেদককে স্থানীয়রা আরও জানান, বিজিবি জনতাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ করে এবং দোকানপাট ভাংচুর করে।

ঘটনার খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা ওসি মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ তরফদার’র নেতৃত্বে বাদাঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসানসহ একদল পুলিশ রাত ১০ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবি এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় বিজিবি-২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মাকসুদুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি যে ভাবে প্রচার হচ্ছে তা না। সীমান্ত সংলগ্ন যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের ধাওয়া করলে সাথে থাকা শিশু সুমন হোঁচট খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে শিশুটি মারা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিজিবির উপর হামলা চালায়। এসময় বিজিবি আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 17
    Shares

সর্বশেষ সংবাদ