থানচির দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৩

থানচির দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো
যেখানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছেনি, নেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, গড়ে ওঠেনি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। উপজেলা সদরে আসার ভরসা একমাত্র নৌপথ। বলছি থানচি উপজেলায় দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর কথা। এখানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন।

 

জেলা সদর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে রেমাক্রি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ম্রো সম্প্রদায়ের লইক্রিপাড়া ৩৭ পরিবারের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে গেলে সারা দিন সময় লাগে। পাড়ায় সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এই অবস্থায় চলতি বছরে এগিয়ে এসেছে সংগঠনটি।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে দুর্গম সীমান্ত রেমাক্রি ইউনিয়নের লইক্রিপাড়া গিয়ে দেখা যায়, এক কামরার একটি বেড়ার ঘর, দূর থেকে দেখা যায় উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, শিক্ষার্থীরা গাইছে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। লইক্রিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুক্রসেন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে স্কুল শুরু হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণিতে ১৪, প্রথম শ্রেণিতে সাত, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুজন, তৃতীয় শ্রেণিতে দুজন ও চতুর্থ শ্রেণিতে একজনসহ ২৬ শিক্ষার্থী আছে। আগামী বছর পঞ্চম শ্রেণির ক্লাশ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

 

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে মদপানে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

লইক্রিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুইতং ম্রো কার্বারি জানান, চলতি বছর হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন থেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে দেওয়া হয়, স্কুল পেয়ে পাড়াবাসী খুবই খুশি ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস করেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যেন চলমান থাকে, সেজন্য হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইয়াং নাংপাড়া, বড়মদকপাড়া, ছোট মদকপাড়া, হৈকো খুমিপাড়া, ক্যমং ত্রিপুরাপাড়া, অংহ্লাপাড়া, সাজাই খুমিপাড়া, প্নেদংপাড়া, চাইহ্লাউপাড়া, নিয়োচিঅংপাড়াসহ থানচি উপজেলা দুর্গম এলাকায় যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সেই সব দুর্গম এলাকায় হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানা যায়। এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। প্রতিটি স্কুলে দুজন করে মোট ৪৬ জন শিক্ষক।

 

২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা প্রোগ্রামটি শুরু করা হয়। এলাকাবাসীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর জেলা শহরে এনে ছাত্রছাত্রী আলাদা হোস্টেলে রেখে এসএসসি পর্যন্ত পড়ানোর পর পরবর্তীতে দেখা গেল অনেকেই মেধাবী, তাই যারা মেধাবী তাদের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, কৃষি ভার্সিটিতে লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচ বহন করে আসছে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অনেকে লেখাপড়া শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন।

আরও পড়ুন  ডিগ্রি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ, পাসের হার ৬৫.৭৮ শতাংশ

 

ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী বিদ্যাপূর্ণ চাকমা জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই, সিলেবাস, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় সহযোগিতা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন বলে জানান তিনি।

 

রেমাক্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা জানান, সংগঠনটি থানচির দুর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী স্কুলের জায়গা কেউ যদি দিতে রাজি থাকেন এবং নিয়ম অনুসারে আবেদন করলে রেমাক্রি ইউনিয়ন এলাকার শিশুদের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা হবে আর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয় বলে জানান তিনি।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

সর্বশেষ সংবাদ