সিলেট | |
প্রকাশিত: 12:02 PM, November 7, 2023
মাঠের নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি গ্রেফতার এড়িয়ে কর্মসূচি সফলের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে সমমনাদের বাইরে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে লাগাতার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে আলোচনা চলছে। বিএনপি হাইকমান্ড তাদের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেছেন। ১২ নভেম্বরের মধ্যে তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। দুপক্ষের অনমনীয় অবস্থানই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখনো সময় আছে আলোচনা বা সমঝোতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের। জনগণ ও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের বিকল্প নেই। সহিংসতা রোধের বিকল্প শুধু সংলাপ। কাজেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তারা আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকার ভেবেছিল ভয়ভীতি-সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী দলকে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু চলমান কর্মসূচিতে দেশের মানুষ থেমে নেই। উসকানির মাধ্যমে একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির দায় বিএনপির ওপরে চাপিয়ে দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। আজ দেশের মানুষ ইচ্ছায়, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছে।
এদিকে সরকারের কঠোর মনোভাব এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাব নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন নীতিনির্ধারকরা। নেতারা মনে করেন, চলমান আন্দোলন দেশে-বিদেশে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। হরতাল ও অবরোধ উভয় কর্মসূচিতে জনগণের সমর্থন আছে। সরকারের দমন-পীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। সরকার দেশে ও দেশের বাইরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নীতিনির্ধারকদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে বিএনপিকে কঠোর কর্মসূচি নিয়েই রাজপথে থাকতে হবে।
লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সমমনা দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও কথা বলছেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এমনকি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও তাদের পরাপর্শ নিচ্ছেন। এর বাইরেও বাম ও ইসলামি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। সমমনা দল ও জোটের বাইরে একটি ইসলামি দল আন্দোলনে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানান।
ওই নেতা আরও জানান, কয়েকটি দল ১২ নভেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে। এছাড়া চারটি ইসলামি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কৌশলগত কারণে দুটি সংগঠনকে মাঠে চাইছেন না হাইকমান্ড। তাদের সমর্থন হলেও আন্দোলনকে আরও বেগবান করা যাবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, গ্রেফতার নিয়ে কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজও পড়েছে। এ অবস্থায় দলটির উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সিনিয়র নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের উদ্দেশ্য আছে। হতে পারে চলমান আন্দোলন থামানো এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপিকে রাজি করানো। এর মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির একটি অংশ দল ছেড়ে অন্য দলে গিয়ে নির্বাচন করবে। এজন্য দলের একজন নেতা কাজও করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয়সহ জেলা নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালে কথা বলছেন বিএনপি হাইকমান্ড। সাংগঠনিক জেলার প্রস্তুতিসহ নানা ধরনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের চারটি জেলার শীর্ষ নেতারা জানান, মূলত জেলার সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি সম্পর্কে একটা ধারণা নিয়েছেন হাইকমান্ড। ঐক্যবদ্ধভাবে চলমান আন্দোলন সফলের ওপর জোর দিয়েছেন। বার্তা দেওয়া হয়েছে, মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। এ আন্দোলন নেতাকর্মীদের বাঁচা-মরার লড়াই। যে কোনো মূল্যে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। দাবি মেনে না নিয়ে তফশিল ঘোষণা করা হলেও লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একজন গ্রেফতার হলে আরেকজন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে সংকট সমাধানে সংলাপের বিকল্প দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, বড় দুই রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থানে অনঢ় থাকলে সহিংস পরিস্থিতি অনিবার্য। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংসতা বাড়াচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো এখন প্রকট হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে কোনো সংলাপ কিংবা সমঝোতা দেখছি না। সামনের সময়ে আরও সংঘর্ষ ও সংঘাত হবে। হয়তো আরও অবরোধ হবে। এর ফলে ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য সবকিছুর ওপর এর প্রভাব পড়বে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও প্রকট হবে। সামাজিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটবে। যতকিছুই হোক না কেন, সমঝোতা-সংলাপ ছাড়া সমাধান সম্ভব না।
কাল ভোর ৬টা থেকে ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ :

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি