ব্যক্তি আয় করসীমা অপরিবর্তিত

প্রকাশিত: 5:21 PM, June 7, 2018

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি আয় করসীমা অপরিবর্তিত থাকছে। যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না।

 

এছাড়া নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ৩ লাখ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৪ লাখ ও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বহাল রয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (০৭) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশকালে বলেন, বাজেটে ব্যক্তি করদাতাদের আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাখার প্রস্তাব করছি। একই সঙ্গে নারী ও ৬৫ বছর কিংবা তার বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩ লাখ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার এবং মুক্তিযোদ্ধ‍াদের ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা রাখার প্রস্তাব করছি।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছিল।

 

এর আগে অর্থমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ অধিবেশন কক্ষে যান। পরে অনুমতি নিয়ে প্রথমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পেশ করেন। এরপর শুরু করেন ২০১৮-১৯ সালের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন।

আরও পড়ুন  বাদল রায়ঃ এক কিংবদন্তির বিদায়

এর আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

 

২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৮.৩ শতাংশ। গতবছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল জিডিপিরি ১৮ শতাংশ। এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা; যার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)।

 

মুহিত বলেন, সার্বিক বিবেচনায় আমি আগামী বছরে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ও করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করছি। তবে কোনো ব্যক্তি-করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য তার করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সুপারিশ করেন মুহিত।

তবে এর আগে অর্থবছরের মতোই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ৪ থেকে ৫ লাখ টাক‍া পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, আবার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যরন্ত ২০ শতাংশ এবং ৬ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ কর এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুত কুলাউড়ার চিকিৎসকরা

ওই হার বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছরে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নারী করদাতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির করদাতাদের জন্য এ সীমা কিছুটা বেশি ছিল।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা কী হবে; তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে উন্নত দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা সাধারণভাবে মাথাপিছু আয়ের ২৫ শতাংশের নিচে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা সাধারণত মাথাপিছু আয়ের সমান বা তার কম থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণের মতো। অর্থাৎ আমাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের তুলনায় অনেক বেশি। করমুক্ত আয়ের সীমা বেশি হলে কর প্রদানে সক্ষম বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি করজালের বাইরে থেকে যান। এতে করের ভিত্তি দুর্বল থাকে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ