মিশরের নব্য ফেরাউনদের কাহিনী

প্রকাশিত: 11:51 AM, August 18, 2020

মিশরের নব্য ফেরাউনদের কাহিনী

মিশরের ফ্যারাও অর্থাৎ ফেরাউনরা ৫ হাজার বছর ব্যাপী দেশটি শাসন করেছে। কিন্তু ফেরাউনদের পরে যে সব শাসক মিশরের ক্ষমতায় এসেছে তারা শুধু তাদের খেতাব বা পদবী পাল্টেছে। এই পরিবর্তন মিশরের জনগণের জন্য কোন কল্যাণ নিয়ে আসেনি। দু’একটি দুর্বল ব্যতিক্রম ছাড়া শাসকদের প্রায় সবাই নীল নদের দানে উর্বর দেশটিকে স¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং ফেরাউনদের মতোই মিশরকে শাসন করেছে।

দেশটি ১৯৫৩ সালে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষিত হয়। কিন্তু গণতন্ত্রের কিছুই ছিলো না এখানে। তথাকথিত ‘আরব বসন্ত’-এর সময় মিশরের সুযোগ এসেছিলো তাদের হাজার বছরের দুর্ভাগ্য পরিবর্তনের। এই ঢেউ অনেক আরব দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয় এবং ২০১১ সালের শুরুতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় মিশরে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ হোসনী মোবারকের ৩০ বছরের শাসনকে নাড়িয়ে দেয়, যিনি ১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাতের হত্যাকান্ডের পর ক্ষমতায় আসেন। তিন সপ্তাহের বিক্ষোভের পর ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারী মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন।

নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে সামরিক শাসকেরা শাসন করে ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত। নির্বাচনের পর মোহাম্মদ মুরসি নেতা হিসেবে মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে ৩ জুলাই অবধি রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। বর্তমানে মিশর শাসিত হচ্ছে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি কর্তৃক, যিনি এই সামরিক ক্যুর নায়ক ছিলেন। এই স্বৈরাচারী শাসকের কারাগারে আটক মিশরের প্রথম নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ মুরসি মারা যান। আদালতে তার মৃত্যু ঘটে বলে ঘোষনা করা হয়।

আরও পড়ুন  ভোটার নেই, কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু!

সামরিক একনায়ক শাসিত মিশরে সংবাদ মাধ্যমের ওপর মারাত্মক চাপ ও সেন্সরশীপ বিদ্যমান। তাই এটা সঠিকভাবে জানা যাচ্ছে না কী ঘটেছে কিংবা কীভাবে মুরসি মারা গেছেন। বিশ্ববাসী শুধু দেখছেন কারা অবৈধ হওয়া সত্বেও মিশরের সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং কারা আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সমূহে আল-সিসিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোই নয়, মিশরের প্রতিবেশীরা তার সাথে হাত মেলাচ্ছে যেনো কিছুই ঘটেনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারের হাই কমিশনার রুপার্ট কলভিলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, সব দিক দিয়ে মুরসির মৃত্যুর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত আবশ্যক, একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে। এটা একটি বিব্রতকর চিত্র।

ফেরাউন শাসকদের হাজার বছর পর বর্তমানে সময়ে গণতন্ত্রের এই ট্রাজেডিকে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। ইতিহাস এটাও লিপিবদ্ধ করবে যে গণতন্ত্রের পথে মিশরের জনগণের প্রথম সাহসী অভিযাত্রাকে প্রতিহত করেছে পাশ্চাত্য শুধুমাত্র এই কারণে যে, তাদের নির্বাচিত নেতা একজন ‘ধর্মীয়’। ইতিহাস এটাও বলবে যে, কীভাবে একজন বেসামরিক প্রেসিডেন্ট একজন ধর্মনিরপেক্ষ স্বৈরশাসকের নৃশংসতার শিকার হন, দেশের গণতন্ত্রের প্রতি তিনি কথিত মারাত্মক হুমকি হওয়ার যুক্তিতে। আমি মিশরের জনগণের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করছি। আজ হোক বা কাল হোক, তারা যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এর ক্ষতিপূরণ পাবে। আধুনিক যুগের এসব ফেরাউনেরা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে। জয়ী হবে গণতন্ত্র।

আরও পড়ুন  করোনা : চীনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

অনুবাদঃ নিজাম উদ্দীন সালেহ
সূত্রঃ হুররিয়াত ডেইলী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ