সেই টেষ্ট হ্যাট্টিকম্যান অলক কাপালী

প্রকাশিত: 9:16 PM, October 28, 2018

সেই টেষ্ট হ্যাট্টিকম্যান অলক কাপালী

মাঠে ময়দানে প্রতিবেদকঃ যে কোন প্রথম স্বীকৃতি নিয়ে আসে আনন্দ। বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছাস। অলক কাপালী সেই নাম। যার হাত ছুঁয়ে এসেছিল টেষ্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাট্টিক।

ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকে। আলো ঝলমল। স্বর্ণাক্ষরে লিখা। রেকর্ডের পাতায়। তোলা থাকে। তার অর্জন। সাফল্য। স্বীকৃতি। ভুলে যায় কিভাবে বাংলাদেশ। সময়ের আবর্তে ও বাস্তবতায় তার ক্যারিয়ার আন্তর্জাতিক অঙ্গন হতে দূরে সরে গেছে। কিন্তু তার সেই সাফল্য এখনও উজ্জলতা ছড়িয়ে যায়। আবেগী করে তোলে বাংলার মানুষকে।

 

আগস্ট ২০০৩ সাল। পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ। পেশোয়ারে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টেষ্টে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৬১ রানের মজবুত অবস্থানে। জাবেদ ওমরের সেঞ্চুরী (১১৯), হাবিবুল বাশারের (৯২) আর মোহাম্মদ আশরাফুলের ৭৭ রানে।

 

ব্যাটিং নামা পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা খাবি খাচ্ছিলো। টাইগারদের বোলিং আক্রমণে। বিশেষ করে স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। একাই টপ অর্ডার, মিডল অর্ডারে ধ্বস নামিয়ে দিলেন এক  ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে। সাথে খালেদ মাহমুদের সমর্থন।

আরও পড়ুন  জৈন্তাপুরে জাপা’র দু’পক্ষের সভা ॥ উত্তেজনা

 

আর পাকিস্তান ইনিংসের শেষ সময়ে। সমস্ত আলো নিজের উপর টেনে নিয়েছিলেন অলক। তার সেই সাফল্য ও কৃতিত্ব এক ইতিহাস। বল হাতে নিয়েই প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে (১০৬.৫) সাব্বির আহমেদের উইকেট তুলে নেন অলক। মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাব্বির। পরের বলে দীনেশ কার্তিক লেগ বিফোর উইকেট। হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে প্রথম ওভার শেষ করেন এই স্পিনার।

 

ভাগ্য যখন সুপ্রসন্ন হয়ে আসে। সেখানে অন্য কেউ ভাগ বসাতে পারেনা। অলকের বেলায়ও তাই হলো।

 

পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি তারই ছিল। পরের ওভারে প্রথম বলেই ওমর গুলকে এলবিডাব্লিউও ফাঁদে ফেললেন। উঠে গেলেন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে। পেয়ে গেলেন প্রথম হ্যাট্টিকম্যানের খ্যাতাব। তার বোলিং স্পেল ছিল ২.১-১-৩-৩।

 

অসাধারণ এই সাফল্যের সুবাধে আসে তৃপ্তি। বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম হ্যাট্টিকম্যানের কৃতিত্বের সংবাদ। বাংলাদেশ ভাসে উচ্ছাসে।

 

অনেক ব্যতিগত সাফল্যের সেই পেশোয়ার টেস্ট শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয়ের মুখ দেখতে পারেনি। পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হারতে হয় হাবিবুল বাশারের দলকে।

আরও পড়ুন  শ্রীলঙ্কার মতো দৌড়ানী খেতে না চাইলে পদত্যাগ করুন : মুক্তাদির

 

সিলেটবাসীর জন্য সংবাদটা ছিল আরো বেশী আবেগের। আনন্দের। অলক কাপালী তাদের সন্তান। তাদের ভাই,স্বজন। তাদের সহপাঠী। তাদের সতীর্থ খেলোয়াড়।

 

সিলেটের ক্রিকেট অঙ্গনে অলক কাপালী অনেক তরুণের সামনে চলার আদর্শের নাম।

বাংলাদেশ এমন একজন ক্রিকেটার পেয়েছিল। যার মাঝে অপার সম্ভাবনা দেখেছিলেন ক্রিকেট বিজ্ঞরা।

ক্যারিয়ারে ১৭ টেষ্ট আর ৬৯ ওডিআই খেলা অলককে অনেক উড়াই উতরাই পার হতে হয়েছে। শেষবার সাদা পোষাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ২০০৬ সালে। আর ফেরা হয়নি তার।

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

সর্বশেষ সংবাদ