অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে, তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের উপর নজরে রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যেন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য অভিভাবক ও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ও সমগ্র জাতিকে সচেতন হওয়ার তাগিদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ভুল পথ। এ ভুল পথে যেন ছেলেমেয়েরা না যায়, সে জন্য সমগ্র জাতিকে সচেতন করতে হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার চালাতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাবের সদর দফতরে বাহিনীটির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে, তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে। কাদের সঙ্গে মিশছে। কী করছে। এসব খেয়াল রাখার দায়িত্ব তাদেরই। সেসংগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্য করতে হবে। যেন শিক্ষার্থীরা বেশিদিন স্কুলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত না থাকে। অনুপস্থিত থাকলে কেন ছিল তা অনুসন্ধান করতে হবে।

দেশে জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে র‌্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে এসবের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  এরইমধ্যে সরকার জঙ্গিবাদবিরোধী নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সেজন্য সারাবিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। অনেকে মনে করে, কিভাবে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সফল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের বাহিনীগুলোর পাশাপাশি জনগণও সচেতন ভূমিকা রেখেছে বলেই সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঐতিহ্যবাহী 'লাকড়ি তোড়ার মিছিল' আজ  

মাদকের বিরুদ্ধেও সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে এরইমধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তবে সেটা যে তার পরিবারের জন্য কতোটা কষ্টের। তা ওই পরিবারই বোঝে। আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন সফলতা অর্জন করেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও র‌্যাবকে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

দেশজুড়ে একসময় জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, অনেকে স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এটা বলে দিতে চাই, সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই। তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে র‌্যাবের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। তাদের এ ভূমিকা প্রশংসনীয়।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। আমাদের দেশে একটি অঘটন ঘটে গেছে, তা হল- হলি আর্টিজানে হামলা। অনেকে ভেবেছিল আমরা আমাদের এ সমস্যাটিকে মোকাবেলা করতে পারব না। কিন্তু র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আমরা হলি আর্টিজানের বিষয়টি মোকাবেলা করেছি।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে শিশু নিহত, দগ্ধ ৩

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এটি এমনি এমনি আসেনি। এটি আমাদের অর্জন করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের একান্তভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি আর থেমে থাকবে না। ২০৪১ সালে আমাদের দেশ কেমন হবে আমরা তার পরিকল্পনা করেছি। আশা করি, বাংলাদেশ সত্যিকার সোনার বাংলা হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা হবে। সুন্দরবনে জলদস্যুদের উৎপাত দমনে র‌্যাবের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনে দেখি জলদস্যুদের উৎপাত। আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলাম। র‌্যাব জলদস্যুদের মোকাবেলায় সফলতা অর্জন করেছে। কঠোর অবস্থান থাকার পর অনেকে জলদস্যুতা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তিনি জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‍সুন্দরবন আমাদের কেবল ঐতিহ্যই নয়, আমাদের সম্পদ। সেখানে দীর্ঘদিন জলদস্যুদের ভয় ছিল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ