এই স্বীকৃতি, মর্যাদায় জনকের আত্মা শান্তি পাবে।। প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: 11:39 PM, March 22, 2018

এই স্বীকৃতি, মর্যাদায় জনকের আত্মা শান্তি পাবে।। প্রধানমন্ত্রী

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পাওয়ায় সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে  ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন,‘‘বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, বাংলার মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয়েছে, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হওয়ার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে’।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের এই অর্জনের জন্য সব শ্রেণিপেশার মানুষ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ। এই অর্জনের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই সারাদেশের মানুষকে। আমরা সরকারে থেকে পথ প্রদর্শক হিসেবে পথ দেখিয়েছি। কিন্তু কৃষক, পেশাজীবী, মেহনতি মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সারাদেশের মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

সবাই মিলে কাজ করেছেন বলেই আজ আমরা ৭.২৮ ভাগে প্রবৃদ্ধি উন্নীত করতে পেরেছি, জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো এগিয়ে এসেছে আমাদের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছি। সে জন্য প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই’।

আরও পড়ুন  সন্তানের জন্য দুধ চুরি : দায় কার?

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর একে একে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধিত করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতা, ঢাকাস্থ বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাবা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণার উৎস। যিনি আজীবন লড়াই করেছেন বাঙালি জাতির মুক্তির বাবার আদর্শে চলেছেন। দীক্ষা নিয়েছেন। লড়াই করে যাচ্ছেন। বাবাকে স্মরণ করে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল কন্ঠে বললেন, ‘আজ নিশ্চয় তার (বঙ্গবন্ধু) আত্মা শান্তি পাবে।’ বক্তব্যে দেশের অগ্রযাত্রায়, দেশের মানুষের কল্যাণে জাতির জনকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করার এক পর্যায়ে চোখে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। তার এই আবেগ তখন সংক্রমিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের মানুষের এই যে অর্জন, উনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দেখে যেতে পারেননি। তার স্বপ্ন ছিল, বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটবে, বাংলার মানুষ উন্নত জীবন পাবে। আজকের এই অর্জন সেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে, তার স্বপ্ন নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারলে হয়তো আরও আগেই আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে পারতাম।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটি বৈরী পরিবেশে দেশে এসেছিলাম। সেখান থেকে জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে যাত্রা শুরু করি। এরপর বাংলাদেশকে একটি ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি।

আরও পড়ুন  যে গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছিল লেখকের মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর

এই অগ্রযাত্রার সূচনা করেছিলেন জাতির পিতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তোলার কাজ সফলভাবে করে যাচ্ছিলেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, এর মধ্যেই বাংলাদেশকে তিনি স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দিয়ে গেছেন। আজ আমরা সেই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি, এই মর্যাদায় নিশ্চয় জাতির জনকের আত্মা শান্তি পাবে। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কত শত মানুষের অবদান, আত্মত্যাগ রয়েছে। আজ তাদের আত্মা নিশ্চয় শান্তি পাবে। আমি কেবল সবাইকে বলতে চাই, আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হবে। আমরা যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? আমরা কেন পরব না নিজের পায়ে দাঁড়াতে? আজ প্রমাণ হয়েছে, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা গর্বিত জাতি হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। সবার কাছে আমার আবেদন থাকবে। আমাদের এই অগ্রযাত্রা যেন কখনও থেমে না যায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ