চট্টগ্রামের যুবলীগের দু’গ্রুপের মারামারি, সাংবাদিকসহ আহত ৭

প্রকাশিত: 8:58 PM, January 2, 2021

চট্টগ্রামের যুবলীগের দু’গ্রুপের মারামারি, সাংবাদিকসহ আহত ৭

প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে যুবলীগের দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ৭জন। গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের নব-নির্বাচিত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর মো. মহিউদ্দীনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একটি মিছিল আসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম- ১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনসহ কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ।

সুত্রে জানা গেছে, যুবলীগের সংবর্ধনা শুরু হওয়ার পর যুবলীগ নেতা লোকমান হাকিমের নেতৃত্বে একটি মিছিল সমাবেশে প্রবেশ করার সাথে সাথে প্রতিপক্ষের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি, চেয়ার ছোঁড়াছুড়িতে ৩ সাংবাদিকসহ ৭ জনের অধিক আহত হয়।

আহতদের মধ্যে উপজেলার জামিজুরী এলাকার আমানত উল­াহর ছেলে আলাউদ্দিন (৩০), দোহাজারীর মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে পাবেল (২০), সাংবাদিক আবু তালেব আনসারী, এম এ রাজ্জাক রাজ, নাসির উদ্দিন আহত হয়। আহতদেরকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। সংঘর্ষ চলাকালে দোহাজারী এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। সমাবেশ চলাকালীন বক্তারা বিশৃঙ্খলা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন  সোনাইমুড়িতে নির্বাচনী সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ ১

পরে চন্দনাইশ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এত সুন্দর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নষ্ট করতেই এ রকম ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যারা এ ধরনের কাজ করে তারা আওয়ামী লীগকে ভালবাসেন না। তারা জামাত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্যই কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে এরকম বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে মারামারি করে আপনারা আমাকে অপমানিত করেছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন আপনাদের কাছে আমার কোন গ্রহণ যোগ্যতা নেই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সিসি ক্যামরার ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, যুবলীগ করতে হলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও রংবাজি বন্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বাস করতে হবে। বাংলাদেশে কোন এমপি বা কোন মন্ত্রীর সুপারিশে যুবলীগ নেতা হওয়া যাবেনা। কারো দালালি করে লাভ নাই। যুবলীগের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই হবে আসল সিদ্ধান্ত। আমরা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ে তথ্য নিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের সন্তান, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান তাদেরকে নেতা বানানো হবে। এখন যুবলীগ নিজেরা নিজেরা মারামারি করবেন না। যারা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চাই, আফগানিস্তান বানাতে চাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে, নিজেদের বিরুদ্ধে লড়বেন না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ